মহামারী করোনায় কতো কিছুই না দেখিয়েছে, চিনিয়েছে আমাদের। অমানবিক আর অসহিষ্ণুতার গল্প যেমন তুলে এনেছে, বিপরীতে সৈকতদের মতো মানুষের বহু মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের গল্পও তৈরী হয়েছে করোনাকালে। টানা চার মাস ধরে ভাসমান মানুষদের দু’বেলা খাবার বিতরণ কার্যক্রমের আজ ইতি টানছেন ছাত্রলীগ নেতা ও ডাকসুর সাবেক সদস্য তানভীর হাসান সৈকতরা।

অসহায় মানুষের পাশে থাকার এই মানবিক গল্পের ইতি টানার ঘোষণা দিয়ে নিজের ফেসবুকে সৈকত লিখেছেন, “মহামারির প্রাদুর্ভাবের শুরুর দিকে গত ২৩ মার্চ শহরের অসহায়, ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষদেরকে দুইবেলা খাবার যোগান দিতে যে লড়াই আমরা শুরু করেছিলাম ১২১ দিনের দীর্ঘ যাত্রা শেষে আগামীকাল তার ইতি টানবো।

দীর্ঘ চারমাস নগরের এই অসহায় মানুষগুলোর জন্য কাজ করতে গিয়ে যেমন কঠিন কিছু বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছি তেমনি মানুষের জন্য কাজ করায় যে কী শান্তি তা নতুন করে উপলব্ধি করেছি।

টিএসসি এলাকায় এখনো আমাদের সঙ্গে প্রতিদিন খেতে আসেন কয়েকশো মানুষ৷ আমি জানি, আমাদের ওপর এই অসহায় মানুষগুলোর যে নির্ভরতা তৈরি হয়েছে, এই কার্যক্রমের ইতি টানলে, তারা অনেকটাই সংকটে পড়ে যাবেন৷ শহুরে জীবনে চলাফেরা ও কাজকর্মের স্বাভাবিকতা অনেকটাই ফিরে এলেও গরীবদের আয় সেভাবে বাড়েনি। তবুও আমার বিশ্বাস, চলমান সময়ে এই মানুষগুলো ধীরে ধীরে তাদের আয়ের উৎস খুঁজে নেবেন। নিজেদের খাবার নিজেরাই যোগাড় করার পুরনো রীতিতে ফিরে যাবেন।”

দীর্ঘ ১২১ দিনের মানবিক গল্পের সমাপ্তি! 1
ছবিঃ তানভীর হাসান সৈকত খাবার বিতরণ করছেন

টিএসসিতে লাখো অনাহারী মানুষকে আহারের ব্যবস্থা করার কার্যক্রমের ইতি টানলেও থেকে যাচ্ছেন না তিনি ও তার দল। তানভীর হাসান সৈকতের এবারের মিশন বন্যাদুর্গত বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সৈকত লিখেছেন-

“দীর্ঘ এই যাত্রা শেষে আমরা যখন ঘরে ফেরার জন্য নিজেদের তৈরি করছিলাম তখন আমাদের ভাবনায় এলো, দেশের মানুষ ভালো নেই। মহামারির মধ্যেই দেশের বিশাল অংশজুড়ে চলমান বন্যায় অসহায় হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ৷ কঠিন এই সময়ে অসহায় মানুষদের একা রেখে যদি ঘরে ফিরে যাই, তবে ব্যর্থ হবে এই তারুণ্য। তাই সিদ্ধান্ত বদলেছি আমরা।

আগামীকাল রাতে বন্যার্তদের সহায়তার জন্য আমরা সুনামগঞ্জ যাচ্ছি। সেখানে আমরা নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী বানভাসী মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করবো, যেকোনো কার্যক্রমে স্বেচ্ছাশ্রম দেবো, গরীব মানুষের ভেঙে যাওয়া ঘরবাড়ি ঠিক করতে কাজ করবো।”

১২২ দিনের সফল কার্যক্রম শেষে নতুন লড়াইয়েও সবাইকে পাশে চেয়েছেন সৈকত। বলেছেন, “আপনাদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা এনেই টিএসসিতে দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম চালিয়েছি আমরা৷ বন্যার্তদের সহায়তায় জন্যও আপনারাই আমার ভরসা। আপনারা আমাকে সহায়তা করলে মানুষকে খাবার কিনে দিতে পারবো, নয়তো শুধুমাত্র স্বেচ্ছাশ্রম দেওয়ার মধ্যেই আমাদের কার্যক্রম সীমিত রাখতে হবে। সহায়তায় জন্য আমাকে 01684023411 নাম্বারে ফোন দিতে পারেন বা বিকাশ করতে পারেন।

আমরা আমাদের জীবন বাজি রেখে এদেশের মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই৷ আপনাদের ভালোবাসা, দোয়া আর সহায়তাই আমাদের পথচলার পাথেয়।”

আরও পড়ুন-