আজ সোমবার ৩১শে আগস্ট বিকালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু এ্যভিনিউস্থ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাকক্ষে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

সভায় সংগঠনটির সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্যের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি করোনাকালীন সময়ে ছাত্রলীগের ভূমিকার ব্যাপক প্রশংসা করেন।

সংগঠনটির সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আমার ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ জানাই। আমি যখন বলেছি, কোভিডের জন্য মানুষ নিজের আত্মীয় স্বজন তার আপনজনের লাশ ফেলে চলে যায়, কাফন-দাফনের ব্যবস্থা হয় না। ছাত্রলীগের ছেলেরা সেখানে ছুটে গেছে। নিজের জীবনের সব মায়া ত্যাগ করে এই মৃতদের; তাদের দাফন-কাফন, সৎকারের ব্যবস্থা করেছে। সেজন্য আমি ছাত্রলীগকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

এছাড়া লকডাউনের সময় কৃষকদের ধান কাটায় এগিয়ে আসার জন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন,‘কোন অহমিকা তো কাজ করেনি। সবাই তো কৃষকের কাছে ছুটে গেছে। ছুটে যেয়ে তোমরা সেই কৃষকের পাশে দাড়িয়েছে এবং ধান কেটে তাদের ঘরে তুলে দিয়েছ। তাদের পাশে থেকেছো। এটাই বলে দেশসেবা। এই যে তোমরা সবকিছু ভুলে গিয়ে চলে গেলা, কৃষকের পাশে দাঁড়ালা। তোমাদের সাথে সাথে পরবর্তীতে আমাদের যুবলীগ গেছে, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ গেছে আর আওয়ামী লীগ তো গেছেই।”

“এছাড়া বন্যার সময় রিলিফের জন্য প্রত্যেকে যার যার সাধ্যমতো সহায়তা পৌঁছে দিয়েছো। করোনার কারণে যারা একেবারে দরিদ্র যারা হাত পাততে পারে, তারা এক রকম! কিন্তু যারা হাত পাততে পারে না, চাইতে পারে না। তাদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়া, পণ্য পৌঁছে দেয়া, সেটাও আমাদের ছাত্রলীগ তোমরা ভালভাবে করেছো? সেজন্য সত্যি আমি খুব আনন্দিত। তোমাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। এই যে আমি বলার সাথে সাথে তোমরা মাঠে নেমে গেছো এবং কাজ করেছো, সারাদেশের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা করেছে। এটা আমি বলবো, তোমরা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছো আগামী প্রজন্মের জন্য। যে কোন কাজেই অবহেলার না, নিজের কাজ নিজে করতে হয়, যা খেয়ে আমাদের জীবন বাঁচে, ক্ষুন্নিবৃত্তি হয়। সেটার জন্য আমরা নিজেরা কাজ করবো, এতে লজ্জার কি আছে? কখনো কোন কাজ অবহেলার না। কিন্তু তোমরা সেটা করতে পেরেছো। এই যে একটা ভয়ভীতি কাজ করেনি। অহমিকা কাজ করেছি সেগুলি জয় করে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এটাই তো সবথেকে বড় কথা, সেটা তোমরা করতে সক্ষম হয়েছো।”

মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে সরকারের ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে ছাত্রলীগ ব্যাপকভাবে রোপণ করে যাচ্ছে এবং এটা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সবসময় পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে ছাত্রলীগকে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এসময় বিশেষ অতিধির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাক মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীরা।