সেনেগাল

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্বের কাছে রীতিমতো আইডল হয়ে উঠছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সেনেগাল। দেড় কোটি মানুষের দেশটি এখন থ্রিডি প্রিন্টিং এর মাধ্যমে স্বল্প খরচে তৈরি করছে করোনা চিকিৎসায় মহামূল্যবান ভেন্টিলেটর। মাত্র এক ডলারে করোনা শনাক্তের কিটও উদ্ভাবন করেছেন দেশটির গবেষকরা।

জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল মাত্র ৫৬টি আইসিউ আর একই সংখ্যক ভেন্টিলেটর নিয়ে সাহসী ভাবে লড়ে যাচ্ছে আফ্রিকার এই দেশটি। তাইতো সেনেগালে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজারেরও কম, মৃত্যু হয়েছে মাত্র ৯ জনের।

করোনার মহামরারিতে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য সারা বিশ্বেই এখন ভেন্টিলেটরের চাহিদা আকাশচুম্বী। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সেনেগালের এক দল গবেষক উদ্ভাবন করেছেন সাশ্রয়ী ভেন্টিলেটর। যেখানে একটি উন্নতমানের ভেন্টিলেটরের দাম ৫০ হাজার ডলারের বেশি, সেখানে থ্রিডি প্রিন্টার মাধ্যমে সেনেগালের তৈরি এসব ভেন্টিলেটর তৈরিতে খরচ পড়বে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ ডলার।

সেনাগাল
সেনেগালের তৈরি ৬০-৭০ ডলারের ভেন্টিলেটর।

লম্বা সময় ধরে ইবোলার মতো ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করে আসা দেশটি এখন স্বাস্থ্য খাতে গোটা বিশ্বের কাছেই বিস্ময়। কোভিড-১৯ এর কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়ায় শুরু থকেই রোগী শনাক্ত ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিতের তাগিদ দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গাইড লাইন অনুযায়ী বেশী বেশী করোনা টেস্ট করতে মাত্র এক ডলারের র‍্যাপিড টেস্ট কিট তৈরি করেছে সেনেগাল।

সেনেগাল গবেষক ইব্রাহিমা গুয়েই জানান, আমার দুই সহকর্মী ইলেকট্রনিক্স এর ওপর কাজ করছে। তারাই মূলত ভেনন্টিলেটরের ডিজাইনার। এর প্রধান পার্থক্য হলো মূল্যে। কারণ হাসপাতালে যে ভেন্টিলেটরগুলো আছে সেগুলো বেশ ব্যয়বহুল। তাই এই মুহূর্তে থ্রিডি পদ্ধতির ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছি।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের বিষাক্ত ছোবলে এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত হয়েছে ৩১ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ সাড়ে ১৭ হাজারের বেশি।

আরও পড়ুন-