রিজেন্ট হাসপাতাল

মহামারীর করোনাভাইরাসের এমন পরিস্থিতিতে করোনা টেস্ট নিয়ে রিজেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসা প্রতারণার ঘটনা কীভাবে ঘটল, তার ব্যাখ্যা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল বৃহস্পতিবার রাতে একটি অনলাইন গণমাধ্যমকে বলেন, “আজকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এগুলো কী? কেমনে, কী করে?”। “জবাবে আমি বলেছি, আমি তো জানি না। একদিন দেখলাম দুটি হাসপাতাল কোভিডের জন্য উৎসর্গ করেছে। চ্যম্পিয়ন…।”

“আমার কাছে সে একদিন বুক ফুলিয়ে কথা বলল। আমি বললাম, আমি তাহলে রোগী পাঠব। রোগী পাঠিয়েছি। কতজন ভালো হয়ে আসছে, তপন নামে আমাদের এক নেতা মারা গেছেন।” রিজেন্ট হাসপাতাল থেকে কোভিড-১৯ এর ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়া নিয়ে তিনি বলেন, “এগুলো প্রমাণিত হলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে।”

সাহেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “খুঁজতেছে তো। হয়ে যাবে মনে হয়। তারও উচিত সারেন্ডার করা।” রিজেন্টের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়েও আশাবাদ জানিয়ে বলেছেন,। “…ধরে ফেলবে ধরে ফেলবে। আকাম করলে নিস্তার নেই।”

মোহাম্মদ সাহেদ
ভুয়া করোনা টেস্ট করা রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক শাহেদ।

রিজেন্ট হাসপাতালে র‌্যাবের অভিযানের দিন তাকে সাহেদ ফোন করেছেন জনানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সে বললো, আমার ওটা তো সিল করছে। জবাবে বলেছিলাম, আমি তো জানি না। কেন সিজ করছে? কেন সিল করছে? নিশ্চয়ই আপনি কিছু করেছেন। সাহেদ বলেছিল, আমাকে অ্যারেস্ট করলে? তখন বলেছি, সেটাও আমি কিছু বলতে পারব না।” এরপর সাহেদ আর কোনো ‘যোগাযোগ করেনি’ বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, কোভিড-১৯ পরীক্ষার ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়ার ‘প্রমাণ পেয়ে’ গত সোম ও মঙ্গলবার র‌্যাবের একটি দল উত্তরা রিজেন্ট হাসপাতাল এবং তাদের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে দেয়। এই ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়। মামলায় সাহেদসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজনকে দুই দিনের অভিযানের সময় গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব। সাহেদসহ বাকিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন-