অনেকেই জানতে চাইছেন, মালয়েশিয়ার গণমাধ্যম যে বলছে রায়হান কবির ক্ষমা চেয়েছে- আসলে সেটা কী? খুব সহজ করে বলি, রায়হান পরিস্কার করে বলেছে, কেউ যদি আমার বক্তব্যে কষ্ট পায় সেজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। তবে আমি যা দেখেছি তাই বলেছি। আমি আমার বক্তব্যে অটল।

এখন আপনি কোনটা নেবেন সেটা আপনার বিষয়। মালয়েশিয়ার গণমাধ্যম পুরোটাই রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রত। সরকারের বাইরে সেখানে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। রায়হানের আইনজীবী সুমিতার কাছে আমি বারবার জানতে চেয়েছি রায়হান তার বক্তবের বিষয়ে কী বলেছে?

উত্তরে সুমিতা বলেছে, রায়হান তার বক্তব্যে অটল। সে বলেছে, কোভিড-১৯ এর সময় প্রবাসীদের প্রতি যে আচরণ তিনি দেখেছেন সেটাই বলেছেন। তবে তিনি মালয়েশিয়ার কাউকে আহত করতে চাননি।

মালয়েশিয়ার আইনজীবীদের সংগঠন লইয়ারস ফর লিবার্টি (এলএফএল) বলেছে, তারাও রায়হানের বক্তব্য বারবার শুনেছেন। খুব সূক্ষ্মভাবে বিচার করলেও মালয়েশিয়ার আইনের কোনোরকম লঙ্ঘন ঘটেনি। এখানে কেবল অভিবাসীদের ওপর দুর্ব্যবহারের ব্যাপারে তার হতাশার কথা ব্যক্ত করেছিলেন রায়হান।

এলএফএল বলছে, যেভাবে রায়হানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে এবং ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করেছে সেগুলো অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৯(১) (সি) ধারার পরিপন্থি, অর্থাৎ অনথিভুক্ত। কারণ কেউ যদি রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কিছু বলে তবেই কারো ওয়ার্ক পারমিট বাতিল হতে পারে। কিন্তু রায়হান এমন কিছু বলেনি। কাজেই তার বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে এই সাজা কিছুতেই টিকবে না।

আপনাদের আরেকটা তথ্য দেই। মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা রায়হানের সঙ্গে দেখা করে বলেছিলেন, পুলিশকে সহায়তা করতে। রায়হান বলেছে, অবশ্যই আমি সহায়তা করবো। তবে আমি কোন মিথ্যা বলবো না।

এবার বলেন, এমন ছেলেকে স্যালুট জানাবেন না তো জানাবেন কাকে?

লিখেছেন- শরিফুল হাসান, অভিবাসন কর্মসূচি প্রধান, ব্র্যাক।

আরও পড়ুন-