নাম রাইসা আনসারি। প্রাক্তন পিএইচডি গবেষক। ম্যাটারিয়াল সায়েন্স বিষয়ে আছে তার পিএইচডি ডিগ্রি। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার লীলা খেলা! সেই নারীই এখন ফুটপাতের ফল বিক্রেতা।

৩৬ বছরের এই নারীর জীবন পাল্টে দিয়েছে করোনা মহামারি। ভারতের ইন্দোরের দেবী অহল্যা বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছিলে তিনি। মাঝখানে তিনি একটি বিদ্যালয়ে অধ্যাপনার চাকরিও করেন।

২০০৪ সালে পিএইচডির জন্যে রেজিস্ট্রেশন করা রাইসাকে পিএইচডি দেওয়া হয় ২০১১ সালে।

ভারতের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর পৌরসভার লোকেরা রাস্তার ধারে ফল বিক্রি করতে বাধা দেয় তাকে। এসময় ঝরঝরে ইংরাজিতে তিনি প্রতিবাদ করেন। যা দেখে অবাক হয়ে যায় মানুষ।

প্রতিবাদের সময় দুর্দান্তভাবে ইংরাজিতে তিনি বলেন, ‘বাজার বন্ধ। খরিদ্দার নেই। আমি রাস্তার ধারে গাড়ি নিয়ে ফল বিক্রি করি। কিন্তু পৌরসভার লোকেরা সেটাও করতে দিচ্ছে না।’

পিএইচডি করে তিনি কেন ফল বিক্রি করছেন? এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমার প্রথম প্রশ্ন, কে আমায় চাকরি দেবে এই সময়?’

তার অভিযোগ, ‘ভারতে মনে করা হয় মুসলিমদের জন্য করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে। আর যেহেতু আমার নাম রাইসা আনসারি, কোনও কলেজ বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান আমাকে কাজ দিতে উৎসাহী নয়।’

রাইসা আনসারি কলকাতার আইআইএসইআরে গিয়েছিলেন আরো একটি গবেষণার জন্যে। একই সময় তিনি লাভ করেন সিএসআইআরের ফেলোশিপ।

রাইসা আনসারির এক সিনিয়র বেলজিয়ামে গবেষণা করছিলেন। তার রিসার্চ হেড রাইসাকে তাদের গবেষণায় যোগদান করার সুযোগ দিয়েছিলেন। সেখানে যাওয়ার জন্যে ব্যক্তিগতভাবে সবরকম প্রস্তুতি তিনি নিয়েছিলেন।

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত পিএইচডি গাইড তার প্রয়োজনীয় নথিপত্রে সই করতে সম্মত হননি। সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া ডটকম

আরও পড়ুন-