মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে পটুয়াখালী জেলা শাখা ছাত্রলীগ। নিষ্ক্রিয় হয়েছেন প্রথম সারির অধিকাংশ নেতা। আর যারা রাজনীতিতে সক্রিয় তাদের ছাত্রত্ব নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। এতে তৈরি হচ্ছে গ্রুপিং, বাড়ছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল।

২০১৭ সালের ২৪ জুলাই মোঃ হাসান সিকদারকে সভাপতি ও ওমর ফারুক মোঃ ইকবাল হোসেন ভূঁইয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘদিন মেয়াদোত্তীর্ণ থাকার পর ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ০৫ অক্টোবর ২০১৯ সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সম্মেলন হয়নি। ফলে এই কমিটির বর্তমান বয়স প্রায় তিন বছর (২ বছর ১১ মাস ২৪ দিন)।

গত ২৯ জুন ২০১৯ কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়। যার মধ্যে প্রায় শতাধিক নেতাই বর্তমানে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। যারা আছেন তাদের ছাত্রত্ব নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ছাত্রলীগের জেলা শাখার মেয়াদ এক বছর। সে হিসেবে গত ২৪ শে জুলাই ২০১৮ শেষ হয়েছে বর্তমান কমিটির মেয়াদ।

দীর্ঘদিনেও হয়নি পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের কমিটি 1
ছবিতে বায়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান, ডানে সাধারণ সম্পাদক ফারুক।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ১০ (খ) ধারায় বলা হয়েছে, “জেলা শাখার কার্যকাল এক বছর। জেলা শাখাকে উপরিউক্ত সময়ের মধ্যে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের হাতে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের অনুমোদনক্রমে ৯০ দিন সময় বৃদ্ধি করা যাবে। এই সময়ের মধ্যে সম্মেলন না হলে জেলা কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ আহ্বায়ক বা এডহক কমিটি গঠন করে ৯০ দিনের মধ্যে সম্মেলন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নিবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে আহ্বায়ক বা এডহক কমিটি বাতিল বলে গণ্য হবে এবং কেন্দ্রীয় সংসদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে কমিটি থাকার ফলে অধিকাংশ নেতাই তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে সাংগঠনিক দায়বদ্ধতা কমে গেছে। এ অবস্থায় দিনকে দিন বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ছে পটুয়াখালী জেলা শাখা ছাত্রলীগ। ফলে নতুন কমিটি হাজার হাজার নেতাকর্মী প্রাণের দাবী।’

আরও পড়ুন-