বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) এ পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীদের আলোচনার এক শীর্ষস্থানে রয়েছেন পটুয়াখালী পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমান পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোঃ সবুর খান।

এর কারণ হিসেবে লক্ষ্য করা যায়, কিছুদিন আগে পটুয়াখালীতে এক কিশোর গ্যাং হামলার ঘটনা ঘটে যার দরুন মিথ্যা মামলার শিকার হচ্ছেন এই জনপ্রিয় তুখোড় ছাত্রনেতা। দাবি ছাত্রলীগ কর্মীদের।

ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীদের অভিযোগ উঠেছে একের পরে। তাঁরা দাবি করছেন, একজন সাংগঠনিক জ্ঞান সম্পন্ন, সুদর্শন ছাত্রনেতা ও আওয়ামী লীগের দুর্দিনের কান্ডারী এই সবুর। কিন্তু বর্তমান সময়ে একদল কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে এই জনপ্রিয় ছাত্রনেতা।

মিথ্যা মামলার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা দায়ী করছেন, কিছুদিন পর পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন যেখানে সবুর খান একজন সভাপতি পদে যোগ্য প্রার্থী। তাই কিছু কুচক্রী মহল এক হয়ে তাকে রাজনৈতিক মাঠ থেকে পিছু হটানোর জন্য ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছেন। এ বিষয়ে পটুয়াখালী ছাত্রলীগসহ যুবলীগ নেতৃবৃন্দরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা যুবলীগের সদস্য (আহবায়ক কমিটি) জুয়েল ইসলাম মিঠুন জানান, পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সবুর খান উড়ে এসে জুড়ে বসা কোন হাইব্রিড নেতা নয়, আমরা একসাথে দলের দুর্দিনে দলের জন্য কাজ করছি। ২০০৮ এর নির্বাচনে নিজের খাইয়া নৌকা স্লোগান দিয়ে ওয়ার্ড থেকে ওয়ার্ড চোষে বেরিয়েছি একসাথে। তখন দলের দুর্দিন উপেক্ষা করে কত হামলা, মামলা, নির্যাতন সহ্য করেছি। আজ দলের সু-দিনেও যদি মিথ্যা মামলা হয় সেটা মেনে নেওয়া যায় না। এটা ওর সাথে সম্পূর্ণ অন্যায় হচ্ছে। সবুর নির্দোষ তা পটুয়াখালীর সর্বস্তরের জনগণ জানে, তাহলে কিসের জন্য তাকে এই হয়রানি মূলক মামলা; কিসের স্বার্থে কার নির্দেশে।

তিনি আরো বলেন, আমি পটুয়াখালী সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মাইনুল হাসান পিপিএম স্যারকে অনুরোধ করবো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে সবুর কে হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হোক।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলার একজন তরুণ সংগঠক ‘পটুয়াখালীবাসী’ যুব সংগঠনের প্রতিষ্ঠা ও সভাপতি মাহমুদ হাসান রায়হান সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেন, “রিফাত, সবুর, মিঠুন, আফজাল, তুরাগ, সাদ্দাম, ওলি, ছেছা, মানিক, সবুজ ও আমিসহ। আমাদের সাথে প্রায় ৩০-৪০টা বন্ধুবান্ধব যারা সেই ২০০৪ সাল থেকে যখন জুবলী স্কুল ও লতিফ স্কুল পড়াশোনা করি। সেই থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত, শুধুই নামমাত্র আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত না, আওয়ামী লীগের দুঃখের দিনে মিছিল করা, প্রোগ্রাম সাজানো; মিছিলের স্লোগান দেওয়া, আগত মেহমানদের আপ্যায়ন করা, মিছিল শেষে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া। এছাড়া প্রতিদিন সকাল দুপুর রাত নেই সবসময় এবং সকল দিবসগুলোতে ছেলেগুলা কাজ করেছে।

আজ ২০২০ সাল কি পেয়েছে রাজনীতি করে, কার কয়টা বাড়ি আছে, কার কয়টা গাড়ি আছে, একটা কিছু করতে পারে নাই। এই ছেলেরা দুই-একজন এখনো রাজনীতির সাথে জড়িত আছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের ভালো কোন পোস্ট পায়নি হাইব্রিডের তারণায়। শুধুই পেয়েছে পরিবার থেকে অবহেলা, রাজনীতিক ব্যক্তিবর্গ থেকে অবহেলা, রাস্তার মানুষদের অবহেলা, নিজের জীবনের ক্যারিয়ার নষ্ট করা, বর্তমানে সবুর ও রিফাত এই মারামারি চলাকালীন সময় স্থানে উপস্থিত না থেকে মামলার আসামি হয়ে পটুয়াখালী ছাড়তে হয়েছে। তাহলে কি করলো ওরা রাজনীতি করে, কি পেলো রাজনীতি থেকে, আজকে মিথ্যা অপবাদ নিয়ে পটুয়াখালী ছাড়া।

আমরা যে সময় রাজনৈতিক মিছিল করতাম তখন এত মানুষ ছিল না। তখন আওয়ামী লীগের এত কর্মী ছিল না। তখন ছিলনা সুযোগ-সুবিধা তখন আমরা বড় ভাইদের সম্মান ভালোবাসায় রাজনীতি করতাম।

২০১০ সালে আমি যখন বুঝতে পারি রাজনীতি করলে শুধুই অপবাদ পেতে হবে, অবহেলায় থাকবো। সেই থেকে রাজনীতির মাঠ থেকে চলে আসছি আজ ওরা রাজনীতির মাঠে আছে কিন্তু ওরা ভালো নেই, আজ পটুয়াখালী ছাড়তে হয়েছে যেখানে ওদের উপস্থিতি নেই সেখানে ওরা মামলায় জড়িত হয়েছে। আমি ওদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক সেই কামনা করছি।”

আরও পড়ুন-