সজীব ওয়াজেদ জয়

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ছেলে ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫০তম জন্মদিন আজ। জয়ের জন্মদিনে আউট সোর্সিং বিষয়ক এক অনুষ্ঠানের স্মৃতিচারণ করে এটিএন বাংলার সিনিয়র সাংবাদিক মুন্নী সাহা ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। পাঠকের জন্য লিখাটি হুবুহু তুলে ধরা হলো-

“ম্যানহাটন এর একটা পাঁচতারা হোটেলে চলছিল অনুষ্ঠানটি। আউট সোর্সিং নিয়ে। আইটি সেক্টরের গ্লোবাল জায়ান্টদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত। বাংলাদেশের তরুনরা এ সেক্টরে কতটা এগিয়েছে, বাংলাদেশই ইনভেস্টমেন্টের নেক্সট ডেস্টিনেশন, তা নিয়ে গ্লোবাল জায়ান্টদের সামনে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রীর ছেলে।

সালটা সম্ভবত ২০১০। তখনো তাঁকে ঘিরে শ্লোগানবাজদের সেই রকম কাড়াকাড়ি, বাড়াবাড়ি শুরু হয়নি। লক্ষ্য করলাম মুহুর্মুহু হাততালি। সব সফটওয়্যার জায়ান্টরা। প্রশ্নোত্তর পর্বটিতে, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং আনীর চৌধুরি- কী দারূন! কী চৌকষ। রিপোর্টার হিসেবে ডাটা সফটের আমন্ত্রনে আমি সেই ইভেন্ট কাভার করছিলাম। গর্বে আমার চোখে জল। টি-ব্রেকে আনীর চৌধুরির সাথে পরিচিত হলাম, সজীব ওয়াজেদ জযয়ের একটা ছোট্ট সাক্ষাতকার নেবার জন্য সাহায্য চাইলাম। আনীর ভাই বললেন, “যান না… আপনি গিয়েই বলুন, নিউজের জন্য সাক্ষাতকার চান। উনি ভীষন অমায়িক- খুশী হবেন।”

তিন হাত দূরত্বেই বসে ছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা- ডিজিটাল বাংলাদেশ কনসেপ্টটি যিনি নির্বাচনী ইশতেহারে ঢুকিয়েছিলেন। সালাম দিয়ে বললাম, ‘জয় ভাই একটু খানি আমার ক্যামেরার সামনে বলতে হবে, বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য’। বললেন, কোথায় আপনার ক্যামেরাম্যান? ব্যাকপ্যাকটা দেখিয়ে বললাম- আমিই। হেসে বললেন- ‘বাব্বা, একাই? আচ্ছা লাঞ্চের সময় কথা বলবো’।

পড়ুন- মৃত্যুর ২৫ বছর পরেও কবরে অক্ষত লাশ!

সেমিনারের লাঞ্চ টাইমে আমি খানিকটা লেথুর ভঙ্গীতে এদিক সেদিক ঘুরে এর ওর ইন্টারভিউ করে বেড়াচ্ছি। দূরে দেখছি, ভিভিআইপিদের সাথে কথা বলছেন সজীব ওয়াজেদ, আবার তাড়াহুরোয় একটু খাচ্ছেনও। সেমিনারে লাঞ্চের পরেতো কোনো সেসন নাই, আর প্রধানমন্ত্রীর ছেলেতো ভার্জিনিয়াতেই থাকেন! তাঁর লাম্বারগিনি বা লিমুজিনে উঠলেই তো শা করে পৌঁছে যাবেন গন্তব্যে… এত তাড়া কিসের?

স্ট্রাগল করে এ্যাচিভ করার দর্শনের নামই- 'জয়'! 1
জয়কে নিয়ে প্রকাশিত ‘সজীব ওয়াজেদ জয়: সমৃদ্ধ আগামীর প্রতিচ্ছবি’ গ্রন্থের প্রচ্ছদ।

এইসব সাতপাঁচ ভেবে, ক্যামেরা-মাইক্রোফোন রেডি করে, আইসিটি উপদেষ্টার কাছে যেতেই, তিনি বললেন- “কই ছিলেন? আমার তো ট্রেন ধরতে হবে… আমি কথা বললে ট্রেন মিস্ করবো, বাড়ী যাবো ক্যামনে?”

আমি অবাক! বলেই ফেললাম, আপনি প্রধানমন্ত্রীর ছেলে, আপনি বাড়ী ফিরবেন ক্যামনে চিন্তা করছেন? ট্রেন ধরতে হবে বলে দৌড়াচ্ছেন! আমিতো ভেবেছি, গাদা গাদা মার্সিডিজ, ফেরারী নিয়ে car rally করে আপনাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য সব অপেক্ষা করছে…

জয় এর মুখে সারল্যের হাসি… “Oh my GOD! প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হলে কি এসবও হয় নাকি?” (একটু কৌতুকের সুরে বললেন।) কিন্তু আপনাদের প্রধানমন্ত্রী, মানে আমার মা তো খালি আমাদের স্ট্রাগল করে, এ্যাচিভ করতে শিখিয়েছেন- কী হবে আমার”!

লম্বা লম্বা পা ফেলে পাঁচতারা হোটেলের লিফটের দিকে এগুতে এগুতেই ৫ মিনিট আমার ক্যামেরায় কথা বললেন, বাংলাদেশের ইনফো-টেক তরুনদের নিয়ে, তাঁর প্রত্যাশা এবং এদেশের সফট-টেক জায়ান্ট হওয়ার সম্ভাবনার কথা।
আমার ক্যামেরার ভিডিও-অডিওর মেমোরি যাই-ই ধারন করুকনা কেন, আমার মেমোরিতে সেই আলাভোলা, সাদামাটা ভঙ্গীতে এক চিমটি কৌতুক মিশিয়ে, মায়ের শিক্ষাটার কথা রেকর্ড হয়ে রইলো।

এরপর যতবার দেখা হয়েছে, যতবার দেখেছি সজীব ওয়াজেদ জয় কে, সেই মায়ের শিক্ষার লেবেলটা গায়ে মোড়ানোই দেখেছি। স্ট্রাগল করে এ্যাচিভ করার দর্শনের নামই বোধহয়– “জয়”। শুভ জন্মদিন সজীব ওয়াজেদ জয়।”

আরও পড়ুন-