পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় চাকুরী দেয়ার নাম করে বেকার তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান তসলিম নামের এক আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত তসলিম রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাঙ্গাবালী নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে একটি প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান তসলিম। তবে প্রতিষ্ঠানের নামে এখনো পর্যন্ত সরকারী রেজিষ্ট্রেশন হয়নি। এরই মধ্যে প্রতিবন্ধী স্কুলের সভাপতি দাবী করে চাকরি দেয়ার কথা বলে ৩২ জন তরুণ-তরুণীর কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তসলিম। কারো কাছ থেকে দুই লাখ আবার কারো কাছ থেকে ১ লাখ অথবা ৮০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কাউকে চাকরি দিতে পারেনি বলে রয়েছে অভিযোগ। এছাড়াও যারা ১ লাখ অথবা এর কম টাকা দিয়েছেন, তাদেরকে আবার নতুন করে টাকা দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। টাকা দিতে না পারলে পিছনে যে টাকা দিয়েছেন, তা বাদ যাবে এবং স্কুলে চাকরি দেয়া হবেনা বলে হুমকি দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এ কারণে চাকরি প্রত্যাশী এসব ভুক্তভোগীরা হতাশ হয়ে পড়েন। কোন উপায় না পেয়ে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে তসলিমকে আটক করেন চাকরি প্রত্যাশীরা। পরে স্থানীয় রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও রাঙ্গাবালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুজ্জামান মামুন এ বিষয়ের সমাধানের আশা দিয়ে তসলিমকে ছাড়িয়ে দেন। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান কোন সমাধান করতে পারেননি। পরবর্তীতে বুধবার জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী মোসাঃ আনিকা বলেন, প্রতিবন্ধী স্কুলে শিক্ষক পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নেয় তসলিম মাস্টার। কিন্তু স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের যে খসড়া তালিকা করে, তাতে আমার নাম শিক্ষক পদে দেয়নি। আমাকে রাখা হয়েছে আয়া পদে। এরপর আবার আমার কাছ থেকে নতুন করে ২ লাখ টাকা দাবী করে এই তাসলিম মাস্টার। আমি টাকা দিতে পারবো না বললে সে আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধমকি দেয়। এখন তার সাথে কথা বলার সুযোগই দেয়না।

ভুক্তভোগী মোঃ সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রতিবন্ধী স্কুলে চাকরি দেয়ার কথা বলে ৯ মাস আগে তার কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন তসলিম। এখনো পর্যন্ত চাকরির কোন নাম নাই। টাকা চাইতে গেলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ কনের। এমনকি হাত কেটে ফেলারও হুমকি দেন।

ভুক্তভোগী মোসাঃ শীলা জানান, সাত মাস পূর্বে প্রতিবন্ধী স্কুলে চাকরি দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু দীর্ঘ ৭ মাসেও চাকরি কোন খবর নাই। টাকাও দেয়না, চাকরিও দেয়না। কিছু জানতে চাইলে হুমকি দেয়। আমরা ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোন সমাধান পাই নাই।

এছাড়াও চাকরি দেয়ার নাম করে অহিদুল ইসলামের কাছ থেকে ১ লাখ, মোঃ আনোয়ারের কাছ থেকে ৫৫ হাজার, মোঃ আতাউল সরদারের কাছ থেকে ১ লাখ, মোঃ মাসুদের কাছ থেকে ৫৫ হাজার, মোঃ শাকিলের কাছ থেকে ১৭ হাজার, মোঃ আসাদের কাছ থেকে ৮০ হাজার, রাকিব মাহমুদের কাছ থেকে ৮০ হাজার, সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ও আল-মামুনের কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকা নেন মিজানুর রহমান তসলিম।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান তসলিম অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, (০১৭১৩৯৫৬৯৬৬) আমার কাছে কেউ টাকা পাইবেনা। আমাকে শুধু শুধু মারছে।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাশফাকুর রহমান বলেন, সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিবন্ধী স্কুলের সভাপতি থাকার কথা ইউএনও’র। কিন্তু মিজানুর রহমান তসলিম নিজে সভাপতি দাবী করে ইতো মধ্যে অনেককে নিয়োগ দিয়ে অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। যেহেতু নীতিমালা অনুযায়ী আমি সভাপতি, আমিতো কাউকে নিয়োগ দেইনি। তাই কোন নিয়োগই বৈধ নয়। কেউ নিয়োগ কার্যক্রম করে থাকলে সেটা প্রতারণা।