মালদ্বীপ

জাপান, কোরিয়া, ইটালী ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সাথে ফ্লাইট ও করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশীদের জন্য তাদের দরজা আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে। রিজেন্ট হাসপাতাল কাণ্ডের পর আরো অনেক দেশ এরকম সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ইউএই বাংলাদেশের করোনা টেস্টের ফলাফল আর গ্রহণ করবে না। তারা নিজেরা টেস্ট করে হয় ঢুকতে দিবে নাহলে আইসোলেশন সেন্টারে পাঠাবে অথবা ডিপোর্ট করবে।

যাইহোক মালদ্বীপের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক। আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে আম্পায়রিং ও আম্পায়ারিং কোর্স পরিচালনা করার জন্য এই পর্যন্ত ৫ বার এই অতি সুন্দর দ্বীপ দেশটিতে ভ্রমণে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। সেখানে এক লাখের উপর বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ করে। ১০০% আমাদানী নির্ভর দেশটিতে করোনা পরিস্থিতিতে তাদের মূল আয় পর্যটন এবং মাছ রপ্তানী পুরাপুরি বন্ধ। অর্থনৈতিক কর্মাকান্ড স্থবির, বাংলাদেশী শ্রমিকরাও বেকার।

গতকাল দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাডমিন্টন অফিসিয়ালদের সাথে জুম মিটিং হচ্ছিল। মিটিং এর মাঝে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় মালদ্বীপবাসীরা বাংলাদেশীদের নিয়ে খুব বিপদে আছে বলেই জানালো। বাংলাদেশী শ্রমিকরা সামাজিক বা শারীরিক দুরুত্বের বিষয়টি বুঝেই না, বুঝলেও মানেনা। মালে ও হলুমালে শহরে আবাসন অত্যান্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় এক রুম ভাড়া নিয়ে চিতকাইত সিস্টেমে ৮/১০ জন গাদাগাদি করে থাকে। এর ফলে সংক্রমণের শিকার বাংলাদেশীরাই বেশি। মালদ্বীপ সরকার বাংলাদেশী শ্রমিকদেরকে স্কুলগুলোতে কোয়ারিন্টিন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং তাদেরকে সহায়তা করছিল বাংলাদেশ নেভির একটা দল ও চিকিৎসকগণ।

কিন্তু বাংলাদেশী শ্রমিকরা স্কুলের ভিতর কোয়ারিন্টনে থাকে না। ফাঁকফোকর বুঝে সুয়ারেজ পাইপ বেয়ে নিচে নেমে দেয়াল টপকিয়ে হাওয়া হয়ে যায় এবং রাতে আবার একই পদ্ধতিতে ফিরে আসে। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে মালদ্বীপ সেনাবাহিনী পর্যন্ত ব্যর্থ হচ্ছে। গিয়াস উদ্দিন হাই স্কুলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল বাংলাদেশ থেকে দীর্ঘমেয়াদি সেনা ট্রেনিং গ্রহণ করা মেজর সিয়াদ হাবীবকে। যিনি বাংলা বুঝেন, বাংলাদেশের জন্য যার হৃদয়ে রয়েছে বিরাট এক সফট কর্নার। (তিনি মালদ্বীপের একজন জাতীয় ব্যাডমিন্টন আম্পায়ার এবং আমার ছাত্র)। ভদ্রলোক বাংলাদেশী শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণ করতে যেয়ে নিজেই করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে এখন তাদের একমাত্র হাসপাতাল ইন্দিরা গান্ধী হাসপাতালের করোনা ইউনিটের জাহাজে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

করোনার চেয়েও শক্তিশালী বাংলাদেশীদের জন্য মালদ্বীপ কতৃপক্ষ এক অভিনব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করে ফেলেছে। বাংলাদেশীদেরকে জাহাজে তুলে নিয়ে দূরবর্তী বিভিন্ন দ্বিপে ফেলে রেখে আসা হয়েছে। কাছের দ্বীপে রাখা হয়নি যাতে সাতরে ফিরে আসতে না পারে। সেখানে নিজেদের দেখাশোনা নিজেদেরই করতে হচ্ছে, কোন সাহায্যকারী নাই। কোন বাংলাদেশী এখন আর মালে ও হলুমালে শহরে নেই। সপ্তাহে একদিন জাহাজে করে কিছু খাদ্য সামগ্রী দিয়ে আসা হয় এবং তাদেরকে মাছ ধরে খাওয়ার জন্য মাছ ধরার সামগ্রী দিয়ে দেয়া হয়েছে। মিটিং এ নেপাল ও শ্রীলংকার ব্যাডমিন্টন অফিসিয়ালরাও ছিল। মালদ্বীপের অফিসিয়ালরা সার্টিফিকেট দিল যে, নেপালি ও শ্রীলংকান শ্রমিকরা আইনের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল এবং তারা কোয়ারিন্টিন মেনে চলছে কোন সমস্যা না করেই।

ব্যাডমিন্টন এশিয়ার নমিনেটেড অফিসিয়াল হিসাবে সভাটা আমি পরিচালনা করছিলাম আর ভাবছিলাম ইয়া মাবুদ, এই মিটিং এর টাইম শেষ হয় না কেন?

লিখেছেন- রাসেল নাজিব ইসমাইল

আরও পড়ুন-