কিশোর কুমার দাশ

বিদ্যানন্দ (এক টাকার আহার) সেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতি আমার মুগ্ধতার কমতি ছিল নেই, এখন মুগ্ধতার সাথে দিনকেদিন যুক্ত হচ্ছে কৃতজ্ঞতা। নভেল করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বড় বড় মাল্টি মিলিয়ন ডলারের কোম্পানি এগিয়ে না এলেও সেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ (এক টাকার আহার) বরাবরের মতো এগিয়ে এসেছে, সবার আগে।

সংগঠনটি এক টাকায় ছিন্নমূল অসহায়দেরকে পেট ভরে খাওয়ায়, এক টাকায় চিকিৎসা দেয়, ডাক্তার নার্সদের জন্য প্রটেক্টিভ গাউন তৈরি করছে, যারা লাশ দাফন কাজে অংশ নিবে তাদের দিচ্ছে নিরাপত্তা পোশাক, শিশুদের জন্য বানাচ্ছে মাস্ক, সংগঠনের কর্মীরা রাত ছুটে যাচ্ছে ট্রেনস্টেশন, বাস, লাঞ্চঘাটে, মসজিদে জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটাতে। এলাকায় এলাকায় স্থাপন করছে হাত ধোয়ার সাবান, পানি, জীবিকা বন্ধে যারা খাবার পাচ্ছে না তাদের মুখে তুলে দিচ্ছে খাবার।

দেশব্যাপী প্রশংসিত এই সমাজসেবামূলক সংগঠন ‘বিদ্যানন্দ’র প্রতিষ্ঠাতার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে সমালোচনার মুখে সংগঠনটির প্রধান পদ থেকে সরে যেতে হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা সহায়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির প্রধান পদ থেকে কিশোর কুমার দাশ গত মাসেই পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে সংগঠনটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ লিখেন, “বিদ্যানন্দ” নামটি দিয়েছেন এক মুসলমান ব্র্যান্ড এক্সপার্ট। “আনন্দের মাধ্যমে বিদ্যা অর্জন” স্লোগানের সাথে মিল রেখে তিনি নামটি দিয়েছিলেন। অনেকেই এটাকে ব্যক্তির নাম থেকে ভেবে ভুল করেন। এজন্য আমরা দুই বছর আগে নাম পরিবর্তনের পক্ষে-বিপক্ষে ভোটে করি এবং স্বেচ্ছাসেবকরা নাম পরিবর্তনের বিপক্ষে ভোট দেয়।

বিদ্যানন্দের প্রবাসী উদ্যোক্তা সশরীরে খুব অল্পই সময় দিতে পারেন। ৯০% মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকরাই চালিয়ে যান প্রতিষ্ঠানটির বিশাল কর্মযজ্ঞ। তবুও উদ্যোক্তার ধর্ম পরিচয়ে অনেকেই অপপ্রচার চালায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে। যাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় কার্যক্রম, অনুদানের গতি।

গত মাসেই বিদ্যানন্দের প্রধান পদত্যাগের কথা জানিয়ে দেন স্বেচ্ছাসেবকদের। সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারে নয়, বরঞ্চ ব্যক্তিগত ত্যাগে স্বেচ্ছাসেবকদের অনুপ্রাণিত করার এবং নতুন মেধায় প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করার স্বপ্নে এমন সিদ্ধান্ত। আর তিনি প্রধানের পদ ছাড়লেও বিদ্যানন্দ ছাড়ছেন না, বরঞ্চ সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন।

আমরা বিষয়টি প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম চলমান ক্যাম্পেইনের পরে। কিন্তু কিছুদিন ধরে চলা মাত্রাতিরিক্ত সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারে জল ঢালতে খবরটি আজকে শেয়ার করলাম।

আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য বিষয়টি হতাশার নয়। বরঞ্চ পদ আঁকড়ে থাকার মানসিকতার এই সমাজে উল্টা পথে হাঁটতে পারার জন্য গর্ব হচ্ছে। আর বিদ্যানন্দে পদে কি যায় আসে? এখানে তো কাজটাই আসল, আর সেটাই আমরা করে ছাড়বো।

বিদ্যানন্দের এই ঘোষণায় অগণিত শুভানুধ্যায়ী ক্ষোভ, হতাশা ও দুঃখ প্রকাশ করেন। এর প্রেক্ষিতে পেজ থেকে আবারও বলা হয়, ‘পদ মৃত্যু পর্যন্ত আঁকড়ে ধরে রাখার নীতিতে বিদ্যানন্দের কর্মীরা বিশ্বাসী নয়। এর আগেও আমাদের বিভিন্ন পদে রদবদল হয়েছে, এতে কাজে তফাৎ হয় না। আর বিদ্যানন্দের উদ্যোক্তা চলে যাচ্ছেন না, তিনি আরেকটু ছোট দায়িত্বে থাকছেন। নতুন কারো নেতৃত্বে ভিন্ন রকমের আইডিয়া আসবে, এটাই আমাদের বিশ্বাস। নেতৃত্ব নির্বাচনেও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে উঠবে, এই আমাদের কামনা।’

আরও পড়ুন-