কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ফিরোজ আলম তুহিন (২৫) নামের এক তরুণ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের আশিয়াদারি গ্রামে। নিহত ফিরোজ আলম তুহিন ওই গ্রামের তসলিম হোসেন সেলিমের একমাত্র ছেলে। তিনি চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

ফেসবুক স্ট্যাটাস সূত্রে জানা যায়, পরিবারের চাপ, ভবিষ্যৎ চিন্তাভাবনা, চাকরি- এসব নানা বিষয়ে তুহিন হতাশায় ভুগছিলেন। তিন মাস ধরে এসব নানা মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেন। জানা যায়, ওই তরুণ নিজের ফেসবুকে শেষ স্ট্যাটাস দেওয়ার কিছুক্ষণ পর বিষপান করেন। তাৎক্ষণিক তাঁকে স্বজনরা নোয়াখালীর মাইজদী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মৃত্যুবরণ করেন।

তুহিন তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে পারিবারিক অশান্তি, কলহ, চাকরি না পেয়ে হতাশ, মাইগ্রেনের যন্ত্রণাসহ নানা বিষয়ে লেখেন। পরিবারের সব সদস্য, বন্ধ, প্রেমিকাসহ সবাইকে নিয়ে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন তিনি। 

ফেসবুক স্ট্যাটাসের শেষ অংশে তিনি সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে লেখেন, ‘সব মিলিয়ে সবাই একদিন ভুলেই যাবে। প্রশ্ন শুধু একটাই, কেউ কি কোনো দিন আমার নীরবতা একাকিত্ব দেখেনি? হয়তো আমার রাতের অজস্র কান্না কেউ দেখেনি। কিন্তু আমার ডিপ্রেশন সবাই দেখেছে, কেউ কিচ্ছু করেনি, পরিবারের কেউও না, এমনি যাকে সবার চেয়ে আলাদা করে দেখতাম সে-ও দেখে দেখেনি। যাক, এটাই ছিল আমার ভাগ্যে লেখা। সবাই পারলে ক্ষমা করে দিয়েন। জীবনে অনেকের মনে অনেকভাবে কষ্ট দিয়েছি, সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, হয়তো আর কোনো দিন ক্ষমা চাইতে পারব না- এটাই শেষ সুযোগ।’

‘চাঁদপুর পলিটেকনিক অ্যালামনাই এসোসিয়েশন’ এর পক্ষ থেকে ফিরোজ আলম তুহিনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তাছাড়াও তুহিনের এমন সিদ্ধান্তকে তার সহপাঠী, বড় ভাই,ছোট ভাই, শুভাকাঙ্ক্ষী সহ সকলের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।