নানান বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল কালাম আজাদ।

আজ মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে স্বাস্থ্য সচিবের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘‘হ্যাঁ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ পদত্যাগ করেছেন।

তবে আমাকে তিনি জানাননি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গিয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।’’

এর আগে গত ১৫ জুলাই মো. সাহেদের রিজেন্ট হাসপাতাল ও সাবরীনা আরিফের জেকেজি হেলথ কেয়ারকে পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য সচিবের নির্দেশে করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার বিষয়ে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এক চিঠিতে ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ।

এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে কিভাবে চুক্তি করা হয়েছিল সে মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

সেদিন স্বাস্থ্য সচিব আব্দুল মান্নান বলেন, ‘রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তির লিখিত আদেশ এই ব্যাখ্যার সঙ্গে সংযুক্ত আছে কিনা জানতে চাইলে মহাপরিচালক জানান, সেই চুক্তি করা হয়েছিল সাবেক স্বাস্থ্য সচিব আসাদুল ইসলামের মৌখিক নির্দেশে। যিনি বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।’

গত ১২ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ওই অফিস আদেশে ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ’ বলতে স্বাস্থ্য মহাপরিচালক কী বোঝাতে চেয়েছেন সে বিষয়ে তার কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

করোনাভাইরাস মোবাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রস্তুত বলে গত জানুয়ারি মাস থেকে বলে আসলেও মার্চে করোনার প্রাদুর্ভাব দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে নানা অব্যবস্থাপনায় তিনিসহ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সাবেক সচিব সমালোচিত হন। এক পর্যায়ে সরিয়ে দেয়া হয় আগের স্বাস্থসেবা সচিবকে।

প্রসঙ্গত, করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসক, নার্স, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের যথাযথ ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সরঞ্জাম- পিপিই এবং এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি নানা অভিযোগ ওঠে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন-