১৯৯৪ সালের ০৩রা সেপ্টেম্বরে রাউজান থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার পথে স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতক চক্রের হাতে নির্মম ভাবে শহীদ হয়েছিলেন ইকবাল হোসেন খোকন ও গিয়াস উদ্দীন জামিল।

তৎকালীন সময়ে উত্তর চট্টগ্রামে যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরী গংয়ের অত্যাচারে মানুষ যখন বিভিষীকাময় সময় পার করছিলেন তখন মুক্তিকামী মানুষের হয়ে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছিলেন সূর্যসন্তান ইকবাল হোসেন খোকন ও গিয়াস উদ্দীন জামিল। ১৯৯৩ সালে যখন সারাদেশে রাজাকার বিরোধী আন্দোলন চলছিলো তখন ছাত্রলীগ নেতা খোকন’র নেতৃত্বে শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে রাউজানে নিয়ে এসে সমাবেশ আয়োজন করে যুদ্ধাপরাধী রাজাকার সাকা চৌধুরীর ফাঁসি দাবি করে। এরপরই ক্ষুব্ধ হয়ে সাকা চৌধুরী তার ক্যাডার বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে গুলি করে হত্যা করে রাজাকার বিরোধী আন্দোলনে সম্মুখভাগের দুই যোদ্ধাকে।

আজ শহীদ ইকবাল হোসেন খোকন ও গিয়াস উদ্দীন জামিল'র ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী 3

তবে ২৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এই হত্যাকান্ডের বিচার এখনো শেষ হয়নি। হত্যাকান্ডের পর তখন মামলা হলেও পরবর্তীতে ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিচার কাজ বন্ধ করে ফেলা হয় এবং মামলার নথি সরিয়ে ফেলা হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সংগ্রামী তরুণের আত্মত্যাগ বিচারবিহীন চাপা পড়ে আছে ২৬ বছর ধরে। হত্যাকান্ডে জড়িতরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।