শুধু নামিদামি প্রতিষ্ঠান নয়, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ দেশের প্রায় অন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বিরুদ্ধেও এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ২০১৯ ইং সালের নভেম্বর মাসে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট কে.সি পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দাতা কৈলাশ চন্দ্রের স্কুলের নামে অর্পিত সম্পত্তি অর্থের বিনিময়ে অন্যের দখলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে সেই ব্যাপারে  উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ঘোড়াঘাট পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি জনিব হাসান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুলিপি, শিক্ষামন্ত্রী, বিভাগীয় কমিশনার রংপুর, দূর্নীতি দমন কমিশন বিভাগীয় কর্মকর্তা বগুরা, জেলা প্রশাসক দিনাজপুর, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিনাজপুর এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ঘোড়াঘাট দিনাজপুর বরাবর প্রেরণ করেলেও বিগত প্রায় এক বছরেও উক্ত বিষয়টির কোন সুষ্ঠু সমাধান হয়নি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও অধ্যক্ষসহ কতিপয় শিক্ষক বিদ্যালয়টির পাঠদানের সীমানার জায়গাসহ নিজস্ব সম্পত্তির ঘোড়াঘাট বাস স্ট্যান্ডে অবস্থিত ফুটবল খেলার মাঠ ও লিচুর বাগানের কিছু জায়গা একাধিক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করে মোটা অংকের টাকা নিয়েছে । এছাড়া বিদ্যালয়ের ১৫৬, ১৫৭ ও ১৯৪ দাগের ১ নং (খ) খতিয়ানভুক্ত এক একর বিরানব্বই শতক (১.৯২) জায়গা বিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত থাকলেও আর্থিক লেনদেন করে এর কিছু আংশিক জায়গা কতিপয় ব্যক্তিকে ছেড়ে দিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছে  বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বীগত সময়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়, প্রেসবৃফিং এ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ বলেছেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম-দুর্নীতি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আমরা যখনই অভিযোগ পাচ্ছি তখনই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির ক্ষমতা অনেক। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের জবাবদিহিতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আইনগত এখতিয়ার শিক্ষা বোর্ডের। পুরাতন আইন ও নীতিমালা সংশোধন করা প্রয়োজন। তাহলে দুর্নীতির প্রবণতা কমে আসবে। বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনিয়ম-দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘোড়াঘাট পৌর এলাকার একাধিক বাসিন্দা ঘটনার কথা সত্যতা স্বীকার করে বলেন এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার মতো কেউ নেই! দেখার কেউ নেই! আমরা এর সুষ্ঠ সমাধান চাই!

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মেজিষ্ট্রেট ওয়াহিদা খানম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি নিয়ে এর আগে অভিযোগ আসলেও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অস্বাভাবিক থাকার কারণে আমরা এর সমাধান দিতে পারিনি তবে খুব দ্রুতই এর ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আ. সাত্তার সরকারের সাথে দেখা করতে যেয়ে তাকে অফিস না পেয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন পরীক্ষার বিষয় নিয়ে চাপ থাকার কারণে আমরা এ বিষয়টির সমাধান দিতে পারিনি তবে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা এর সমাধান দেয়ার চেষ্টা করবো। আমরা তো এ জন্যই আছি, আমাদের কাজতো ঐটাই!

ঘোড়াঘাট পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি জনিব হাসান বলেন, বর্তমান শিক্ষামুখী আওয়ামীলীগ সরকার ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুদ্ধী দূর্নীতি দমনের দিক নির্দেশনার ফসল হিসেবে, আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন নিঃকলঙ্ক কর্মী হওয়ায় দেশ সেবার দায়িত্ব পালনে একান্ত দৃয় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বিধায় উক্ত বিষয়টি সরেজমিনে সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি গুলো সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য পুনরায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

আরও পড়ুন-