বিদ্যানন্দ (এক টাকার আহার) সেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতি আমার মুগ্ধতার কমতি ছিল নেই, এখন মুগ্ধতার সাথে দিনকেদিন যুক্ত হচ্ছে কৃতজ্ঞতা। নভেল করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বড় বড় মাল্টি মিলিয়ন ডলারের কোম্পানি এগিয়ে না এলেও সেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ (এক টাকার আহার) বরাবরের মতো এগিয়ে এসেছে, সবার আগে।

এই সংগঠনটি এক টাকায় ছিন্নমূল অসহায়দেরকে পেট ভরে খাওয়ায়, এক টাকায় চিকিৎসা দেয়্‌ দেয় আইনি সহায়তা, শিশুদের বিনামুল্যে শিক্ষা দান করে, ফুটপাথে শুয়ে থাকাদের মাঝে কাপড় বিলি করে, তারা নির্বাচন শেষে মেয়র/কমিশনারদের ছাপানো হাজার হাজার অকেজো পোস্টার খুলে সেই কাগজে স্কুলের ছেলেমেয়েদের জন্য খাতা বানিয়ে দেয়।

এবার তারা ডাক্তার নার্সদের জন্য প্রটেক্টিভ গাউন তৈরি করছে, যারা লাশ দাফন কাজে অংশ নিবে তাদের দিচ্ছে নিরাপত্তা পোশাক, শিশুদের জন্য বানাচ্ছে মাস্ক, সংগঠনের কর্মীরা রাত ছুটে যাচ্ছে ট্রেনস্টেশন, বাস, লাঞ্চঘাটে, মসজিদে জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটাতে। এলাকায় এলাকায় স্থাপন করছে হাত ধোয়ার সাবান, পানি, জীবিকা বন্ধে যারা খাবার পাচ্ছে না তাদের মুখে তুলে দিচ্ছে খাবার।

মুগ্ধতার সাথে 'বিদ্যানন্দ'র এবার কৃতজ্ঞতাও প্রাপ্য! 1
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বানানো মেডিক্যাল গাউন।

সারারাত ওষুধ দিয়ে আবার বসে যাচ্ছে সেনিটাইজার বানাতে। রাতের জন্য আবার জীবাণুনাশক তৈরিতে। একা সরকার এই মহামারী সামাল দিতে পারবে না যদি আমরাও এগিয়ে না আসি।

বিদ্যানন্দ-কে আমি বিশ্বাস করি। আমি তাদের আমার সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য করেছি। আসলে সাহায্য আমি ওদেরকে করিনি, সাহায্য করেছি নিজেকেই। কারন বিদ্যানন্দ (এক টাকার আহার) কাজ করে আমার জন্য, আমার পরিবারের জন্য, আমাদের জন্য। (বিদ্যানন্দের ফেসবুক পেজে গেলেই পাওয়া যাবে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা।)

লিখেছেন- রাফিউজ্জামান সিফাত