টিএসসিতে ভীর করতে ‘না’ করায় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের বিরুদ্ধে দলবল নিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের উপর হামলা করার অভিযোগ করেছেন ডাকসুর সদ্য বিদায়ী সদস্য ও ছাত্রলীগ নেতা তানভীর হাসান সৈকত।

এ বিষয়ে নিজের ফেসবুক দেয়ালে তানবীর হাসান সৈকত লিখেছেন, “গত ২৩ মার্চ থেকে করোনা দূর্যোগের কারণে প্রায় ১০০০ ছিন্নমূল, ভাসমান মানুষদের মাঝে প্রতিদিন দুইবেলা আমরা টিএসসিতে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছি। গতকাল আমাদের ১০০ তম দিনের কার্যক্রম শেষ হয় এবং আজকে থেকে আমরা একবেলা খাদ্য সহায়তা দিচ্ছি। আমরা বেশ কজন এখানে সবসময় অবস্থান করে এই কার্যক্রম চালাচ্ছি।

বেশ কিছুদিন ধরে টিএসসিতে বিকাল বেলা মানুষজনের ভীড় হয় বলে ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান আসাদ ভাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিম করোনা পরিস্থিতি মাথায় রেখে টিএসসিতে ভীড় না করতে এবং টিএসসি ছেড়ে যার যার বাসায় চলে যেতে প্রতিদিন বিকালে উপস্থিত ভীড়কে অনুরোধ জানায়। এবং আমাদেরকে মানুষজন যেন অনর্থক এখানে ভীড় করে আড্ডা না দেয় সেদিকে খেয়াল রাখতে অনুরোধ করেন।

প্রতিদিনকার মতো আজও সন্ধ্যার দিকে সেটাই করছিল আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা। এমন সময় সাদা রঙের একটি গাড়ির ভিতর থেকে একজন (পরবর্তীতে তার পরিচয় জানা যায় ছাত্রদল নেতা মাহফুজ) বলেন, তিনি কারো জন্য অপেক্ষা করছেন। তখন খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমের একজন স্বেচ্ছাসেবক ও ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে জসিমউদ্দীন হলের নির্বাচিত জিএস ইমাম হাসান তাকে অনুরোধ করে বলেন, আপনার দেখাদেখি অন্যরা দাঁড়াবে, আপনি একটু সামনে গিয়ে অপেক্ষা করেন।

গাড়িতে থাকা মাহফুজ ও তার সাথে থাকা তার বান্ধবী লিয়ানা তালুকদার (প্রশ্ন জালিয়াতির অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিমধ্যে বহিষ্কৃত) দুজন গাড়ির ভিতর থেকে বলতে থাকেন, “তুই কি প্রক্টর নাকি? তোকে জিজ্ঞেস করে দাঁড়াতে হবে? রাস্তা কি তোর বাপের নাকি?”

'ক্যাম্পাসে ছাত্রদলকে সহাবস্থান করতে দেয়াটা কি অপরাধ?' 1
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল

তখন তাদেরকে ইমাম হাসান ‘আমরা তো কোনো অপরাধ করিনি তুই তোকারি করবেন না’- এই বলে অনুরোধ করলে মাহফুজ ক্ষিপ্ত হয়ে গাড়ি থেকে নেমে ইমাম হাসানের কলার চেপে ধরেন। এসময় টিএসসি দেয়ালের পাশে জটলা পাকিয়ে থাকা ছাত্রদল নেতা শ্যামল (ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক) ও তার সাথে থাকা ছাত্রদল কর্মীরা মার মার বলে ছুটে যান ও কয়েকজন ইমাম হাসানকে মারতে শুরু করেন।

এসময় ইমাম হাসানের পাশে থাকা উদ্যান গেটে খাবার বিক্রি করেন যে খালা তার ছেলে মানিক ও খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমের আরেকজন স্বেচ্ছাসেবী মারধরের শিকার হয়। ছাত্রদলের মারধর থেকে তাদেরকে বাঁচাতে গিয়ে আরেকজন স্বেচ্ছাসেবী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী সাহাদ আমিন ছাত্রদলের হামলায় গুরুতর আহত হোন।

এসময় আমি সহ কয়েকজন সাংবাদিক থামাতে ছুটে গেলে আমরাও ছাত্রদলের কর্মীদের লাঞ্চনার শিকার হই। মানবজমিনের ফটো সাংবাদিক জীবন ভাই ছবি তুলতে গেলে তার ক্যামেরা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে ছাত্রদলের কর্মীরা।

আমরা আসলে কী অন্যায় করেছি? অসহায় মানুষকে খাবার দেয়াটা অপরাধ, নাকি করোনাকালীন সময়ে টিএসসিতে অযথা ভীড় না করতে অনুরোধ করাটা অপরাধ? রাজনৈতিক সৌজন্য দেখিয়ে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান করতে দেয়াটাই কি আমাদের অপরাধ?”

আরও পড়ুন-