কুয়াকাটার পর্যটন ইউনিয়ন নামে খ্যাত লতাচাপলী ইউনিয়নের পূর্ব আলীপুর এসআরএস কোল্ড স্টোরেজ সংলগ্ন রাস্তার দক্ষিণ পার্শ্বে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের তার ফেটে যাওয়া একটা অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা এমন মন্তব্য করে দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আনছার উদ্দিন মোল্লা।

  • তিনি তার বিবৃতিতে বলেন, ‘লতাচাপলী ইউনিয়নের পূর্ব আলীপুর এসআরএস কোল্ড স্টোরেজ এর রাস্তার দক্ষিণ পার্শ্বে হাজী মোঃ আবুল হোসেন, হাজী আবুল কালাম, হাজী মোঃ নজরুল ইসলাম, হাজী মোঃ আবুল হোসেন মোল্লা গংদের রেকর্ডীয় সম্পত্তি রয়েছে’। ‘দাতাগণ ওই সম্পত্তি থেকে কিছু জমি বিভিন্ন গরিব অসহায় মানুষদের মাঝে ঘর বাড়ি তৈরী করে বসবাসের জন্য সল্পমূল্যে বায়না সূত্রে বিক্রি করেন’। ‘উক্ত অসহায় ব্যক্তিদের চলাচলের জন্য সকলের সম্মতিক্রমে একটি রাস্তা নির্মাণের জন্য করোনা ভাইরাসের কারণে লোকজন একত্রিত না করে খননযন্ত্র দ্বারা মাটি কাটার কাজ করছিল’।

তিনি জানান, ‘সেকাজ করতে গিয়ে খননযন্ত্র চালক আঃ ছালাম অজানা, অসাবধানতা ও অসচেতনতা বশত কুয়াকাটার দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের মাটির নিচে পুতে রাখা (লাইন নেয়া) তার উঠিয়ে ফেলে এবং একখানা কালো তার এর উপরে কালোকভার সামান্য ফেটে যায়’। এবিষয় গত ০৯-০৮-২০২০ইং তারিখ রোজ রবিবার আনুমানিক বেলা ১১.২০ ঘটিকায় চালক আঃ ছালাম তাকে ফোনের মাধ্যমে অবহিত করেন’। তখন তিনি লতাচাপলী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের নাইউরীপাড়ার রাখাইন মাতুব্বর ক্রাসে (খাসে) বাবুর মৃত্যুতে তার পরিবারকে সমবেদনা জানানোর জন্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ পাওয়া মাত্র গোড়াআমখোলা সংলগ্ন সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লোক পাঠিয়ে সংবাদ দেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ‘সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের সিকিউরিটি অফিসার হারুন অর রশিদ এর সাথে ফোনের মাধ্যমে কথা হয় তার, যার ফোন নং ০১৮২৭৩৯৩৫৯৫ এবং তাদেরকে ঘটনা স্থলে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়’। ‘চেয়ারম্যান স্ব শরিরে ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে ল্যান্ডিং স্টেশনের রেজাউল করিম সহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতিতে স্থানীয় লোকজন নিয়ে ফেটে যাওয়া তারের সংস্কারের জন্য আনুমানিক রাত ১১টা পর্যন্ত সর্বাত্তক চেষ্টা ও সহযোগিতা করেন’। এমনকি ঢাকা থেকে আগত সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের এম,ডি মহোদয়কে বিষয়টি মৌখিকভাবে অবহিত করেন তিনি।

অত্র ইউনিয়নের এহেন অজ্ঞতা ও অসচেতনতা বশত অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনায় চেয়ারম্যান আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে যেন এধরণের অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা না ঘটে সে লক্ষ্যে প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে সচেতন থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অনতিবিলম্বে ক্যাবল লাইন সনাক্ত করণ ও সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডের মাধ্যমে পরবর্তী দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য এলাকাবাসীর পক্ষে অনুরোধ করেছেন। সনাক্ত করণ চিহ্ন না থাকার কারণে এহেন অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা ঘটেছেন বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বিবৃতিতে আরও বলেন, একটি মহল এবিষয়টি নিয়ে ফায়দা হাসিলের জন্য অপপ্রচার ও প্রচারণা চালাচ্ছে, যেটা খুবই দুঃখ জনক। তাই যারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন তাদেরকে এহেন কর্মকান্ড থেকে বিরত থাককে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ‘অপপ্রচার চালিয়ে কখনও সত্যকে মিথ্যায় পরিনত করা যায়না। শুধু মাত্র বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা যায়’। তাই দেশ ও জাতীর কল্যাণে সকলকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহবান জানান তিনি।