২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট প্রত্যাখ্যান করে তার কপি ছিঁড়ে ফেলেছেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। করোনা মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে তড়িঘড়ি করে বাজেট দেয়া হয়েছে মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন তারা। একইসঙ্গে করোনা মোকাবিলায় সরকারকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং রোডম্যাপ তৈরি করে জাতির উদ্দেশে প্রকাশ করারও দাবি জানান।

বুধবার (১ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে বাজেট প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় সংসদের বাইরে বিক্ষোভ শেষে বাজেটের কপি ছিঁড়ে ফেলেন বিএনপির পাঁচ সংসদ সদস্য। দলটির বাকি দুই সংসদ সদস্য অসুস্থ থাকায় এই কর্মসূচিতে উপস্থিত হতে পারেননি বলেও জানানো হয়।

২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পরপরই ১৪ জুন গুলশানে ব্রিফিং করে বাজেট প্রত্যাখ্যান করেন বিএনপি মহাসচিব। এরপর বিএনপির সংসদ সদস্যরাও একই পথ অনুসরণ করে এ বাজেটের নানা অসঙ্গতির কথা বলে সংসদে সমালোচনা অব্যাহত রাখেন।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, ‘বিএনপির সংসদ সদস্যদের মধ্যে একমাত্র আমাকে বাজেট আলোচনার শেষ দিকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু একপর্যায়ে স্পিকার আমরা মাইকও বন্ধ করে দেন। মাত্র একজনই বিরোধী দলের সদস্য। বাকি সবাই মহাজোটের শরিক। আমাদের দাবি ছিল ভার্চুয়াল বাজেট আলোচনার। সেটা হলে সব সদস্য তার বাজেট প্রতিক্রিয়া দিতে পারতেন। সেই সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে।’

বিএনপির এমপিরা ছিঁড়ে ফেললেন বাজেটের কপি 1
বিএনপি এমপিদের বিক্ষোভ

গোটা জাতি সংকটে আছে উল্লেখ করে হারুন বলেন, ‘কিন্তু সরকার সেটা উপলব্ধি করছে না। দেশের বিশেষজ্ঞরা এবং যারা এই সংকটে কাজ করতে চান, তাদের সরকার তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছে। খেয়াল করবেন, স্বাস্থ্যখাতের বেহাল অবস্থার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়েছিলাম এবং স্বাস্থ্য বিভাগকে সংস্কারের কথা বলেছিলাম। কিন্তু এই নিয়ে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী কোনও কথা বলেন নাই। ফলে সব মিলিয়ে গতকাল যে অপ্রত্যাশিত ও অকল্পনীয় বাজেট পাস হয়েছে, যাতে গত অর্থবছরের চেয়েও ২৪ শতাংশ বেশি অর্থ বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। এটা অবাস্তব ও অকল্পনীয়। আমরা এই বাজেট প্রত্যাখ্যান করছি।’  

করোনা মোকাবিলায় বিএনপির দেওয়া ৮৭ হাজার কোটি আর্থিক সহায়তা প্যকেজের কথা উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমরা তিন বছর মেয়াদি বাজেট ভাবনা দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার বরাবরের মতো তার চরম কর্তৃত্ববাদী চরিত্র বজায় রেখে বিএনপি’র পরামর্শগুলো আমলে নেয়নি। শেষ পর্যন্ত সরকার যে বাজেট প্রস্তাবনা সামনে এনেছে, সেটা একমাত্র ক্ষমতাসীন দল ছাড়া কেউ কোনোভাবেই একটা সংকটকালীন বাজেট হয়েছে বলে রায় দেয়নি।’

লিখিত বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সরকারের আর সব বাজেটের মতো এই বাজেটে লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ যে রকম ঢালাওভাবে করা হয়েছে সেটা বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে আর কখনও হয়নি। এবার মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করা যাবে।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন, আমিনুল ইসলাম, জিএম সিরাজ এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।