ইলিশা ফেরিঘাটে ১৮ আগস্ট দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় একটি ফেরি বিকল হয়ে যাওয়ায় ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌরুটে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে মঙ্গলবার সকাল থেকে দু’প্রান্তে কয়েকশত যানবাহন আটকা পড়ে রয়েছে। পণ্যবাহী পরিবহন শ্রমিকরা তাদের মালামাল নিয়ে ইলিশা ঘাটে চরম দুর্ভোগে রয়েছে। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তাও নিশ্চিত না জানায় পরিবহন শ্রমিকরা, তাদের পণ্য নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তার মধ্যে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের যাতায়াতের সহজ যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে ভোলার ইলিশা ও লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর হাট নৌরুট। ব্যস্ততম এই রুট দিয়ে বিআইডব্লিউটিসি’র ৩টি ফেরিতে প্রতিদিন ২ প্রান্তে কয়েকশত যানবাহন পারাপার করে। কিন্তু গত কয়েক দিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কারণে মেঘনা নদীর ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়াও অস্বাভাবিক জোয়ার এলেই তলিয়ে যায় ইলিশা ফেরিঘাট। তখন ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা থাকে বন্ধ। তার ওপর আজ ভোর থেকে কিষানী ফেরি হঠাৎ বিকল হয়ে যায়। ফলে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এক দিকে যেমন ফেরির ট্রিপ কমে গেছে, তেমনি একটি ফেরি বিকল হয়ে যাওয়ায় যানবাহন পারাপার কমে গেছে। তাই দু’পাড়ে কয়েকশত পরিবহন আটকা রয়েছে।

পরিবহন শ্রমিকরা জানান, তারা অনেকেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে ৪-৫ দিন ধরে ইলিশা ঘাটে আটকা রয়েছে। তাদের যানবাহনগুলোর মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই মালামাল নিয়ে পরিবহন শ্রমিকরা রয়েছে চরম বিপাকে। একই সঙ্গে তাদের থাকা খাওয়া ও টয়লেট সমস্যায় রয়েছে। ফেরি সংকটের কারণে অনেক যাত্রীবাহী ব্যক্তিগত পরিবহন ঘাটে আটকা পড়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে ফেরি সর্ভিসের ব্যবস্থাপক কে এম এমরান খান জানান, এ রুটে আগে প্রতিদিন ৩টি ফেরি ৬টি করে ট্রিপ দিত। কিন্তু গত কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়ায় তীব্র স্রোতের কারণে ও হঠাৎ মঙ্গলবার ভোর রাত থেকে ১টি ফেরি বিকল হওয়ায় ২টি ফেরি এখন মাত্র ২টি ট্রিপ দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।