ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ছয়জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও এতে সহায়তা করার অভিযোগে মামলা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-২০১৭ সেশনের এক ছাত্রী। এ ঘটনায় নুর ও তাঁর সহযোগীদের শাস্তি দাবি করে ফেসবুকে একটি নিউজ শেয়ার করায় নুরের সমর্থকদের তোপের মুখে পড়েছেন ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুজহাত ফারিয়া রোকসানা।

গতকাল সোমবার রাত থেকেই নুজহাত ফারিয়া রোকসানার ছবি শেয়ার করতে থাকেন অনেকে। অনেকে আবার তাকে মামলাকারী ঢাবি ছাত্রী বলেও অপপ্রচার চালান। এটি নিয়ে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন রোকসানা।

রোকসানা বলেন, নূর এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে তার সঙ্গে আমি কোনোভাবে জড়িত নই। তবুও নুরের সহযোগীরা আমাকে নিয়ে বিভিন্নভাবে কুৎসা রটাচ্ছেন। এতে করে আমি এবং আমার পরিবার সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছি।

নুজহাত ফারিয়া রোকসানা বলেন, ‘ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত নুরের শাস্তি চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় তাঁর অনুসারীরা তাদের ফেসবুকে এবং কোটা সংস্কার গ্রুপে আমার ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস দিচ্ছে। মামলা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মেয়ে, আমি ইডেনে পড়ি। অথচ আমার ছবি ব্যবহার করে নানা রকম মিথ্যা ও বানোয়াট কুৎসা রটাচ্ছে, যা একজন নারীর জন্য অপমানজনক ও অবমাননাকর। আমি এই কুরুচিশীলদের বিপক্ষে অতিদ্রুত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করব’

পড়ুনঃ ভিপি নূরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, আমি জানি না, কে বা কারা এটা করছে। তবে আমাদের দায়িত্বশীল জায়গা থেকে কেউ এটা করেনি।

নুরের অনুসারীরা আমাকে নিয়ে কুৎসা রটাচ্ছে: ইডেন শিক্ষার্থী 1

বিষয়টি নিয়ে কী পদক্ষেপ নেবেন জানতে চাইলে নুর বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বড় একটি প্ল্যাটফর্ম। এখানে অনেকেই অনেকভাবে অনেক কিছু নিজ থেকে করে। তবে তাঁকে নিয়ে যেন কোনো ধরনের কুৎসা রটনা না করে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলব।’

নুরুল হক নুরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গত দুদিনে রাজধানীর লালবাগ ও কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের এক শিক্ষার্থী। মামলায় পরস্পর যোগসাজশে অপহরণ করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং হেয়প্রতিপন্ন করে ডিজিটাল মাধ্যমে অপপ্রচার করার অভিযোগ আনা হয়।

গতকাল সোমবার কোতোয়ালি থানায় করা মামলার আসামিরা হলেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ (২৮), আহ্বায়ক হাসান আল মামুন (২৮), ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর (২৫), ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম (২৮), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সহসভাপতি নাজমুল হুদা (২৫) এবং আব্দুল্লাহিল বাকি (২৩)। একই আসামিদের বিরুদ্ধে গত রোববার লালবাগ থানায় মামলা করেন ঢাবির ওই ছাত্রী। এই মামলায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে ১ নম্বর আসামি করা হয়।

মামলার এজহারে ওই ছাত্রী বলেন, জানুয়ারির ৩ তারিখে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহবায়ক হাসান আল মামুন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নবাবগঞ্জের একটি বাসায় আমাকে ধর্ষণ করে। এই বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর মামুনের সাথে দেখা করিয়ে দেয়া এবং বিষয়টির সমাধান করার কথা বলে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি নাজমুল আমাকে সদরঘাটের একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায়। সেখানে সকালের নাস্তা শেষে আমাকে একটি লঞ্চে চাঁদপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

চাঁদপুর পৌঁছানোর পর সেখানে হাসান আল মামুনকে দেখতে না পেরে আমার সন্দেহ হওয়ায় আমি নাজমুলকে দ্রুত আমাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলি। ওইদিন বিকেলে ঢাকায় ফেরার জন্য আমরা একটি লঞ্চে উঠি। সেখানে লঞ্চের কেবিনে নাজমুল হাসান সোহাগ আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় আমি কান্নাকাটি শুরু করলে আমাকে নষ্টা মেয়ে হিসেবে উপস্থাপন করতে চায় নাজমুল।

পরবর্তীতে নাজমুল হাসান সোহাগ ‘Arohi sima Baishakhi Das’ নামক ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে আমার ফোন নাম্বার বিভিন্ন সেক্সুয়াল গ্রুপে ছড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে গত ২০ জুন আমি বিষয়টি ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক ও তৎকালীন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরকে জানাই। তিনি তখন বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে গত ২৪ জুন মীমাংসার কথা বলে নীলক্ষেতে আমার সাথে দেখা করেন। কিন্তু তখন তিনি (নুর) বিষয়টি মীমাংসার কথা অস্বীকার করে আমাকে এই বিষয়ে বেশি কথা বলতে নিষেধ করেন। এটি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাদের ভক্তদের দিয়ে আমার নামে উল্টাপাল্টা পোস্ট করারও হুমকি দেন নুর। পরে আমার নামে কুৎসা রটাতে মো. সাইফুল ইসলাম মো. নাজমুল হুদা ওআব্দুল্লাহ হিল বাকিকে লাগিয়ে দেয়।

এজাহারে বাদী আরো বলেন, ‘ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা পর্যায়ের কয়েকজন বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করতে চাইলেও আসামিরা তাদের ষড়যন্ত্রকারী বলে আখ্যা দেয়। এরপর আমি শারীরিক-মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় এবং আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে বলার কারণে মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে।’