বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যহতি পাওয়া ও ডাকসুর সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানীর ত্রাণ বিরতরণের সময়কার একটি ছবি নিয়ে সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ছবিতে দেখা যায়, নৌকা থাকা স্বত্বেও গলা পানিতে ভিজে ত্রানের বস্তা নিয়ে যাচ্ছেন রাব্বানী। এ বিষয়ে নিজের ব্যাখ্যা দিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

সমালোচনার জাবাবে গোলাম রাব্বানী লিখেছেন- “এটা নিয়েও লিখতে হবে ভাবিনি! গতকাল সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার অন্তর্গত পোতামারা ইউনিয়নের পানিবন্দী অসহায় মানুষের মাঝে দেশরত্ন শেখ হাসিনার ভালোবাসার উপহার পৌঁছে দেয়ার কিছু স্থির চিত্রের মধ্যে একটি ছবি নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন করেছেন, সামনে নৌকা থাকতে কেন পানিতে নেমেছি? এটা উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত কিনা?

ভাইরে, গত সাড়ে পাঁচমাস যাবত, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটানা কাজ করতেছি, কোনদিন তো উৎসাহ দেয়ার জন্য একটা শুকনা ধন্যবাদও দেন নাই, আর স্রেফ একটা ছবি দেখেই, পাইছি রে! বলেই ঝাঁপিয়ে পরলেন সমালোচনায়! বাহ!

ছবি নিয়ে সমালোচনার জবাবে যা বললেন রাব্বানী 1
স্ট্যাটাসের সাথে এই ছবিটিও জুড়ে দিয়েছে গোলাম রাব্বানী।

প্রথমত, যে বাড়িতে উপহার দেয়ার ছবি দেখেছেন, তার একপাশে বড় গাছের বাগান আর অন্যপাশে অল্প পানি থাকায় ইঞ্জিন নৌকা ঘাটে ভেড়ানো দুষ্কর ছিলো। আর ওখানকার পানি বেশ পরিষ্কার জেনে, গোসল ও সাঁতারের জন্যই লুঙ্গি, গেঞ্জি, গামছা নিয়ে আমি স্বেচ্ছায় নেমেছি। ঘাটের কাছে ঢালু খালের মতো থাকায় ওখানে গলা পানি মনে হয়েছে, এমনিতে কোমরজল। ছবিতে যে ছোট নৌকা দেখেছেন, সেটা ঐ বাড়ির নিজস্ব চলাচলের জন্য, আমাদের নাহ। ঐদিকের ৮-১০ বাড়িতে এভাবেই উপহার পৌঁছে দিতে হয়েছে সবাইকে। এই অসহায় মানুষগুলোর জন্য সহায়তা নিয়ে সরেজমিন দেখে আসতে পারেন চাইলে।

এরপর আমরাও নৌকা এনে বাকি উপহারগুলো নৌকা থেকেই দিয়েছি। আসলে অতিরিক্ত জাজমেন্টাল হয়ে যাওয়া, বোধহয় আমাদের জাতিগত সমস্যা! মূল ঘটনা না জেনে, আশেপাশে কি হয়েছে, কি হতে পারে, এসব না জেনে-বুঝে জাস্ট একটি ছবি দেখেই কি সুন্দর ভালো-মন্দ জাজ করে ফেলি!

কিছু পরশ্রীকাতর, নিচু মানসিকতার হিপোক্রেটের জন্যই অন্যারা ভালো কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন! নিজে তো করবেন না কিছু, অন্যরা করলেও এপ্রিশিয়েট না করে, তীর্থের কাকের মতো একটা খুঁত ধরতে মুখিয়ে থাকেন!

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একবার নিজেকে প্রশ্ন করবেন… করোনা, আম্পান, বন্যার এই মহাদুর্যোগকালীন সময়ে দেশ ও দশের জন্য আপনার অবদান কি? জাস্ট এ বিগ জিরো, নয়তো?”