২০১৯ সালে লিখা একটি রম্য গল্প লেখকের বিনা অনুমতিতেই নাটক বানিয়েছেন নির্মাতা হাসিব খান। যেখানে রচনায় লিখা হয়েছে সেতু আরিফের নাম। নাগরিক টিভিতে প্রচারিত ঈদের নাট ‘প্রক্সি লাভার’ নিয়ে এমন অভিযোগ তুলেছেন রম্য লেখক সোহাইল রহমান।

ঈদে নাগরিক টিভিতে মিশু সাব্বির, সারিকা সাবাহ, চাষী আলম অভিনিত ‘প্রক্সি লাভার’ নামের নাটকটি প্রচারিত হয়। ‘গল্প চুরি’ করে নাটক নির্মানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন সোহাইল রহমান। সেখানে তিনি কপিরাইট আইনের আশ্রয় নেয়ার কথাও উল্লেখ করেন। পাঠকের জন্য লিখাটি হুবুহু তুলে ধরা হলো-

“মেজাজ খুবই খারাপ। মেজাজ খারাপের কারণ- আবারো গল্প চুরি। নাহ, ফেসবুকে কেউ কার্টেসি ছাড়া কপি পেস্ট করলে আমি তেমন কিছুই বলি না। দুয়েকশ লাইক কমেন্ট পেয়ে কেউ যদি খুশি থাকে তো থাকুক। গল্প চুরি করে কেউ কখনো বড় লেখক হতে পারেনি।

তবে লেখক না হতে পারলেও গল্প চুরি করে নাট্য পরিচালক আর স্ক্রিপ্ট রাইটার হওয়াটা সম্ভবত খুব বেশি কঠিন না। তার প্রমাণ এখনো আমার কভার ফটোতে লাগানো। এক গল্প নিয়ে তিন তিনটা নাটক! তবে ওটা নিয়ে কিছু বলতে আসিনি আজ। আজ বলবো এবারের ঈদের একটা নাটক নিয়ে।

তার আগে চলুন একটা গল্প শুনি সংক্ষেপে। এলাকার বড়ভাই ফেসবুকে প্রেম করেন। সুন্দরী এক মেয়েকে পটান। কিন্তু তার সাথে সামনাসামনি দেখা করার সাহস নেই। কারণ ভাই খুব মোটা। ভাইয়ের ধারণা মেয়ে উনাকে দেখলে রিজেক্ট করে দিবে। এজন্য ভাই তার এক ক্লোজ ছোটভাইকে ডেট করতে পাঠায়। সেই ছোটভাইয়ের আবার নিজের প্রেমিকা আছে। ওদিকে ভাইয়ের হয়ে সে নিয়মিত ভাবীর সাথে ডেট করে। ফোনে কথা বলা প্লাস চ্যাট করে বড়ভাই। ভাই বলে, আমাকে আর কিছুদিন টাইম দে, আমি জিম করে চিকণ হবো, বডি ঠিক করব। তারপর তোর ভাবীকে সব খুলে বলব। তার আগে অব্দি আমার হয়ে প্রক্সি দিবি তুই। তবে সবসময় মনে রাখবি, ও তোর ভাবী হয়, ভাবী!

তারপর শেষমেশ ভাইয়ের হয়ে ছেলেটা ভাবীকে বিয়েই করে ফেলে। আর ভাই খুশি হয়৷ কারণ ভাইয়ের ধারণা বিয়ে উনি নিজে করেছেন, তবে অন্যের মাধ্যমে।

এই হলো গল্প। এবং এই গল্প যারা আমার নিয়মিত পাঠক তাদের কাছে পরিচিত হওয়ার কথা। ১৪ ই নভেম্বর ২০১৯ সালে আমার লেখা এই গল্পটা বহু লোক পড়েছেন। এটাতে বারো হাজার রিয়্যাক্ট ও সাড়ে ছয়শো শেয়ার ছিলো। কমেন্ট প্রায় চৌদ্দশ

এবং এই ঈদে নাগরিক টিভিতে রাত এগারোটা বিশ মিনিটে দেখানো মিশু সাব্বির, সারিকা সাবাহ, চাষী আলম অভিনিত ‘প্রক্সি লাভার’ নামের নাটকটা বানানো হয়েছে হুবুহু আমার গল্প নির্লজ্জভাবে চুরি করে। যেটা নাকি সেতু আরিক নামের জনৈক লেখক (!) রচনা করেছেন এবং ডিরেক্টরের নাম হাসিব খান। ইউটিউবে সিডি চয়েজ চ্যানেলে নাটকটা এখন দেখা যাচ্ছে, এবং সেখানে বেশ কিছু কমেন্ট হলো, ‘এটা সোহাইল ভাইয়ের গল্প চুরি করে বানানো।’

জানিনা ডিরেক্টর প্রডিউসার কেউ কমেন্ট পড়েন কিনা। আমি ডিরেক্টরকে মেসেজও করেছি, কিন্তু রিপ্লাই দেননি।

এর আগেও এরকম গল্প চুরি করে নাটক বানানো হয়েছে বেশ কয়েকবার আমার গল্প থেকে। এবং আমি প্রতিবারই ক্ষমা করে দিয়েছি এবং তেমন কোনো স্টেপই নেইনি। তবে এবার নিবো। যা যা করা যায়, সবই করব এবং এর শেষ দেখব। একটা দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করলে আশা করা যায় পরবর্তীতে গল্প চুরি করে নাটক বানানোর সাহস কেউ পাবে না। কপি রাইট আইনে মামলা করার প্রসেস শুরু করব শীঘ্রই।

আমি আশা করব আপনারা আমার সাথে থাকবেন এবং গল্প চোরদের উচিত শিক্ষা দিতে সাহায্য করবেন। আপাতত মেনশনকৃত লেখক এবং পরিচালকের আইডিতে গিয়ে কমেন্ট করে জানিয়ে আসুন যে তারা একটা অনৈতিক কাজ করেছে। যেটা অন্য যেকোনো চুরির মতই শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এছাড়াও আমার লিস্টে (ফেসবুক) যেসব নাট্য পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেতা আছে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আশা করি আপনারাও আমার পাশে থাকবেন।”