শাহনাজ খুশি

ছোট অর্দার পরিচিত মুখ শাহনাজ খুশি। গত ১৭ জুলাই ঢাকা থেকে গাজীপুরের পুবাইলে শুটিংয়ে যাওয়ার পথে ভয়ঙ্কর সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন দর্শকপ্রিয় এই অভিনেত্রী। দুর্ঘটনায় তাকে বহনকারী গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে, অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন তিনি ও তার গাড়ি চালক।

নসু ভিলেন’-এর শুটিংয়ের জন্য গত শুক্রবার পুবাইল যাচ্ছিলেন শাহানাজ খুশী। কিন্তু যাওয়ার পথে টঙ্গীর মাজুখাল ও মীরের বাজারের মাঝামাঝি একটি স্থানে ঘটে যায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। শুটিংয়ের ক্ষতির কথা চিন্তা করে তিনি দুর্ঘটনার পরও শুটিংয়ে অংশ নেন অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি।

আজ সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাহনাজ খুশি জানান, বর্তমানে তিনি ভালো আছেন এবং শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। স্ট্যাটাসে খুশি লিখেছেন- “আমি ভাল আছি, শারিরীক ভাবে সুস্থ আছি- এ কথাটা বলতে আমার সময় লাগলো। কারন আমি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত। গাড়ীটা সম্পুর্ন ধ্বংস হয়েও, সেই গাড়ীর মধ্যে আমি এবং ড্রাইভার দুজনেই বেঁচে আছি কিভাবে- এটা মনে হলেই অসুস্থ হয়ে পড়ছি!”

'বেঁচে আছি কিভাবে- এটা মনে হলেই অসুস্থ হয়ে পড়ছি' 1
র্দুঘটনায় দুমড়ে-মুচড়ে যায় শাহনাজ খুশির গাড়িটি।

শুভানুধ্যায়ীদের ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, “দুইদিন আমার ফোন বন্ধ ছিল। আমি কাল ফোন ওপেন করে আপনাদের ভালবাসা দেখে অঝোরে কেঁদেছি! আমি বুঝতে পারছি সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপা, আর আপনাদের এই অকৃত্রিম অপার ভালবাসার জোর- এই দুই মিলে আমাকে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে এনেছে। আমার কৃতজ্ঞতা সৃষ্টিকর্তার কাছে, আমার কৃতজ্ঞতা আপনাদের কাছে। আমার বৃদ্ধা মা, বোন, ভাই সবাই গাড়ীর ছবি দেখে,আমার কন্ঠস্বর না শোনা পর্যন্ত পাগলের মত কান্নাকাটি করেছে। এখনো করছে। কাছের স্বজন, প্রিয়জনরাও তাই! আপনারা আমার ইনবক্সে/ফোনে/পোষ্টে/চঞ্চলের পোষ্টে/ফোনে/আমার পরিবারে ফোন করে যে ভালবাসা দিয়েছেন, আমার জীবন ফিরে পারার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে আমার কন্ঠ হয়ে যে কৃতজ্ঞা জানিয়েছেন, তা আমার জীবনে ঘুরে দাঁড়াবার শক্তি হয়েছে।

আমি/আমার পরিবার জ্ঞানত কোন অন্যায়/লোভ বশত কোন খারাপ কাজ, কখনো করি নাই। আপনারা দোয়া করবেন, যেন সেটা কখনো না করি। দেশের ক্ষতি না করি। আপনাদের এ ভালবাসার মর্যাদা রাখতে পারি। যাদের ফোন ধরতে পারি নাই, মেসেজের উত্তর দিতে পারি নাই, তাদের সবার কাছে ক্ষমা চাই। আমি মানসিক ভাবে খুব অসুস্থ। নিজের চিৎকার এখনো নিজের কানে ফিরে ফিরে আসছে।”

সড়ক ব্যবস্থার প্রতি খানিকটা ক্ষোভ নিয়েই শাহনাজ খুশি লিখেছেন, “যারা বলেছেন আমার গাড়ী ওভার স্পীডে ছিল কিনা! তাদের বলছি, কাভার্ড ভ্যানকে সাইড দেবার জন্য গাড়ী সম্পুর্ন থেমে ছিল। থামা গাড়ীর উপরই লেন থেকে বের হয়ে এসে, সে গাড়ীর উপর তুলে দিয়েছে। কাভার্ড ভ্যান/ড্রাইভার সবই ধরা পড়েছে। এমন দুর্ঘটনা তো অহরহই হচ্ছে। আমি তো মারা যাই নাই। মারা গেলেও খুব বেশী কিছু হতো না। শুধু নিউজগুলোর হেড লাইন বদলে লেখা থাকতো, “সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন প্রিয় অভিনয় শিল্পী শাহানাজ খুশী………….”

স্ট্যাটাসে সাংবাদকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানিয়েছেন জনপ্রিয় এই টিভি অভিনেত্রী।

আরও পড়ুন-