মরণনেশা ইয়াবা ব্যবসার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ এখন রোহিঙ্গাদের হাতে। বর্তমানে ইয়াবার যেসব বড় বড় চালান আটক হচ্ছে বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে। তার বেশিরভাগ চালানের সাথে রোহিঙ্গা সিন্ডিকেট জড়িত বলে দাবি করেছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ।

জেলা পুলিশের তথ্যমতে, করোনার দুর্যোগ চলাকালে গত চার মাসে কক্সবাজারে ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে ৩৫ লাখ ২১ হাজার। মামলা হয়েছে ৫৩৩টি। গ্রেপ্তার হয়েছে ৭৪৭ জন। অভিযান, গ্রেফতার ও মামলা তদন্তে বেরিয়ে এসেছে বেশিরভাগ মাদক চালানের মূল হোতা রোহিঙ্গা। বাংলাদেশিরা কেবল বহনকারী ও খুচরা ব্যবসায়ী হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। পাশাপাশি ইয়াবার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো থেকেই।

সূত্র মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক শক্তিশালী ইয়াবা চোরাচালান চক্র গড়ে ওঠেছে। পাশাপাশি ক্যাম্পের বাইরে গহীন পাহাড়ি এলাকায় বসতবাড়ি তৈরি করে রোহিঙ্গারা ইয়াবা ব্যবসার পাশাপাশি ডাকাতি ও অপহরণের মত ঘটনারও জন্ম দিচ্ছে। আর এই অপকর্মে জড়িত বেশিরভাগই পুরাতন রোহিঙ্গা। সাথে যুক্ত হয়েছে নতুন রোহিঙ্গারাও। তবে নতুন রোহিঙ্গারা আসার পর শক্তিশালী হয়ে ওঠেছে রোহিঙ্গা চোরাচালান সিন্ডিকেট।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা আগে সেখানে অনেকেই ছিলেন ‘ইয়াবা ডন’। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসার পর কিছুদিন চুপচাপ থাকলেও বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে তাদের সেই সিন্ডিকেট ফের সক্রিয় হয়ে ওঠেছে।

ক্যাম্পের কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে ইয়াবা পাচারের সাথে জড়িত অন্তত দুই শতাধিক রোহিঙ্গা। তাদের সঙ্গে মিয়ানমারের রাখাইন সম্প্রদায়ের ইয়াবা গডফাদারের সাথে যোগাযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন-