সাধারণ জীবন-যাপনের জন্য সারাদেশের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা আছে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের। আর বর্ষায় হাওরাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা থাকায় ছোট ভাইয়ের মৃত্যুতে নিজের এলাকায় গিয়ে পুলিশ ভ্যানে চড়ে বাড়ি যেতে হয়েছে তাঁকে।

রাষ্ট্রপতির বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার কামালপুরে। জেলা সদর থেকে মিনিট বিশেক সড়ক পথ পেরিয়ে, বালিখোলা ঘাট থেকে হাওর বেষ্টিত উপজেলা মিঠামইন যেতে হয় ট্রলারে চেপে। হাওরের বুকে ভেসে চলার সময়টায় দূরের গ্রামগুলো ঠেকে একেকটি ছোট দ্বীপের মতো। প্রায় সোয়া একঘণ্টা পর নৌকা পৌঁছায় নিভৃত গ্রাম কামালপুরে।

নিজের এলাকায় লুঙ্গি পরে চায়ের দোকানে বসে থাকা কিংবা বঙ্গভবনে বসেই এলাকার সমস্যা সমাধান করার জনশ্রুতি আছে। রাষ্ট্রপতির জন্য স্বাভাবিক যে নিরাপত্তা প্রটোকল থাকে, সেটির সুযোগ ছিলোনা নিজ এলাকায়। পানি বেষ্টিত হাওরাঞ্চলে বাড়ি, তাই বর্ষায় সড়কে যোগাযোগ বন্ধ। ঢাকা থেকে রাষ্ট্রপতি গিয়েছেন হেলিকপ্টারে।

রাষ্ট্রপতি পুলিশ ভ্যানে, সামরিক সচিব অটো রিক্সায়! 1
পুলিশ ভ্যানে চড়ে পৈতৃক নিবাসে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

গত ১৯ জুলাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ছোট ভাই আবদুল হাইয়ের অন্তিম যাত্রায় তাকে বিদায়ের আয়োজনে যোগ দিতে আকাশপথে মিঠামইনে যান রাষ্ট্রপতি। বর্ষায় অবস্থা এতোটাই দুর্গম এই এলাকার, যে রীতিমত কোনো গাড়ি ঘোড়াই চলে না সেখানে। হেলিকপ্টার থেকে নেমে তাই স্বয়ং রাষ্ট্রপতিকে পৈত্রিক ভিটে বাড়িতে পৌঁছাতে হয়েছে পুলিশের ভ্যানে। আর সামরিক সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গেলেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায়!

ছয় মাস বর্ষা আর ছয় মাস শুকনো- প্রকৃতির এই খেলায় আধুনিকায়নের এই সময়েও বর্ষা মৌসুমে এমন যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে এখানকার মানুষ। আর প্রত্যন্ত এই এলাকায় জন্ম নেয়া যে মানুষটি এখন দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন, তিনি আসলে এখানকার মানুষের সংগ্রামের এক মূর্ত দৃষ্টান্ত।

তবুও হাওরের কূল ঘেঁষে করা বাড়িতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সময় পেলেই সেখানে ছুটে যান। নিজ বাসভূমিতে গিয়ে পূর্ব পুরুষদের স্মরণ করতে দাঁড়ান বাবা-মায়ের কবরস্থানের পাশে। আর এসব কারণেই তিনি সাধারণে অসাধারণ!

আরও পড়ুন-