মানবপাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাংসদ মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুল কুয়েতের নাগরিক হলে তাঁর আসন শূন্য হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, এই বিষয়ে তদন্ত চলছে। নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বুধবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সংসদে নেতা বলেন, “সে কুয়েতের নাগরিক কী না… সেটা কিন্তু কুয়েতের সাথে আমরা কথা বলছি, সেটা দেখব। আর যদি এটা হয়, তাহলে তার ওই সিট হয়ত খালি করিয়ে দিতে হবে। কারণ যেটা আইনে আছে সেটা হবে। তার বিরুদ্ধে আমরা এখানেও তদন্ত করছি।”

বুধবার সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ কুয়েতে পাপুলের গ্রেপ্তার হওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তিনি এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।

কুয়েতের নাগরিক হলে পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল: প্রধানমন্ত্রী 1
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাংসদ মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুল

তার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সে (পাপুল) কিন্তু স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। সে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আমাদের (আওয়ামী লীগের) নমিনেশন চেয়েছিল, আমি দিইনি। কিন্তু সে স্বতন্ত্র ইলেকশন করেছে। ওই সিটটি আমরা জাতীয় পার্টিকে দিয়ে দিয়েছিলাম। জাতীয় পার্টির নোমান (মোহাম্মদ নোমান) নমিনেশন পেয়েছিলেন, কিন্তু নির্বাচন করেননি। সেখানে ওই লোক (পাপুল) জিতে আসেন। আবার তার ওয়াইফকেও যেভাবে হোক (সংরক্ষিত আসনের এমপি) বানায়। কাজেই এটা কিন্তু আমাদের করা না।”

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুলের সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি রয়েছে।

পাচারের শিকার পাঁচ বাংলাদেশির অভিযোগের ভিত্তিতে পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ এনেছে কুয়েতি প্রসিকিউশন। সাধারণ শ্রমিক হিসাবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শুধু তাই নয়, নিজের স্ত্রী সেলিনা ইসলামকেও সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য করে আনেন তিনি।

আরও পড়ুন-