মহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই মানবিক কাজের মাধ্যমে নিজেদের ফেলে আসা সোনালী অতীতের জানান দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। অদৃশ্য এই শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ময়দানে সবখানেই সমান ভাবে বিচরণ ছাত্রলীগের। জরুরী খাদ্য সরবরাহ কিংবা লাশ দাফন, কৃষকের পাশে দাঁড়ানো সহ দুর্দান্ত সব কাজে বাহবা কুড়িয়েছে দেশব্যাপী। ছাত্রলীগকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন সয়ং প্রধানমন্ত্রী। তবে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ তাতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে, ১১০ দিন ধরে স্বেচ্ছাসেবী হয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ডে করোনাক্রান্ত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে তাঁরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের অন্যতম সংগঠক হাফিজ শেখ চ্যালেঞ্জের নেতৃত্বে জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিগত ১১০ দিন যাবৎ করোনা আইসোলেশন সেন্টারগুলোতে সেচ্ছায় কাজ করে যাচ্ছেন। করোনাকালীন সময়ে জেলা ছাত্রলীগের এমন কার্যক্রম পুরো দেশে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ নেতা হাফিজ শেখ চ্যালেঞ্জ এর নেতৃত্বে ৬৫ সদস্য বিশিষ্ট ছাত্রলীগের স্বেচ্ছাসেবক টিমের সদস্যরা পুরোটা সময় ধরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে জীবানুমুক্ত রাখার কাজ করেছেন, সমানতালে দৌড়েছেন আইসোলেসন ওয়ার্ডে করোনা আক্রান্ত ১৩৮জন রোগীর জরুরী অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিতের জন্য। সাথে রোগীদের ঔষধ ও খাবার সরবরাহ করেছেন নিয়মিত। আর জরুরি প্রয়োজনে ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করিয়ে দেয়ার কাজটাও করেছেন তাঁরা।

এছাড়াও আইসোলেশন ওয়ার্ডে ডাক্তার, নার্সদের সাথে সমন্বয় করে অন্যসব জরুরী সেবাও দিয়ে আসছে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। কুষ্টিয়া জেলায় করোনাক্রান্ত কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, জনপ্রতিনিধি সহ মোট ৪৭ জনের বাসভবনে গিয়ে সেবা দিয়েছেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। শুধু তাই নয়, করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৯ জনের লাশ দাফন ও জানাজা সম্পন্নের কাজও করেছে ছাত্রলীগ। মানুষের পাশে নিজেদের সবটুকু উজার করে দিয়ে দাঁড়ানো বেশ কয়েকজন কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাফিজ।

কুষ্টিয়ায় ১১০ দিন ধরে করোনা রোগীদের পাশে জেলা ছাত্রলীগ 1
করোনা আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন করেন।

দীর্ঘদিন ধরে চলমান রাখা এমন মানবিক কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ হাফিজ চ্যালেন্জ জনতার মুখ’কে জানান, ‘করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই আমরা জেলা ছাত্রলীগের উদ্দ্যোগে একটি বিশেষ কুইক রেসপন্স টিম গঠন করে করোনাক্রান্ত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এপর্যন্ত আমরা প্রায় ১৩৮ জন করোনাক্রান্ত রোগীকে ভালোবাসা, মমতা দিয়ে সুস্থ করে তুলেছি। এছাড়া ছাত্রলীগের কুইক রেসপন্স টিম জেলায় করোনাক্রান্ত কুষ্টিয়া জেলাপ্রশাসক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, জনপ্রতিনিধি সহ মোট ৪৭ জনের স্ব স্ব বাসভবনে গিয়ে সেবা দিয়েছে। আমরা কুষ্টিয়া জেলায় করোনায় মারা যাওয়া ৯ জন ব্যক্তির জানাজা সহ লাশ দাফন করেছি।’

তিনি আরো প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে এই সংকটকালীন সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত ভ্যানগার্ড হিসেবে কিছু করার প্রত্যয়ে এসব কার্যক্রম চালু রেখেছি। আগামীতে যতদিন করোনার ছোবল থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হবে না ততদিন আমরা সেচ্ছায় জনগণের পাশে থাকবো। করোনা রোগীদের সেবা করতে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন, আমি আপনাদের কাছে দোয়া কামনা করছি।’

আরও পড়ুনঃ