হলি আর্টিজান

চার বছর আগে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা চালিয়ে ২২ জনকে হত্যার করে নব্য জেএমবি। এর দায়ে সাত সদস্যের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য নথি (ডেথ রেফারেন্স) পেপারবুক তৈরির পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে আসামিদের আপিল শুনানিও শুরু হবে।

মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি ছাপাখানা বিজি প্রেসে এ মামলার পেপারবুক ছাপার কাজ আটকে আছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জানান, হলি আর্টিজান মামলার পেপারবুক ছাপার কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে পেপারবুক এখনো হাতে পাওয়া যায়নি। পেপারবুক পেলে আইন অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী বিচারিক আদালতের রায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য উচ্চ আদালতের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে তা উচ্চ আদালতে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা থাকে।সে অনুযায়ী গত বছর ২৭ নভেম্বর এ মামলায় রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার নথি গত বছর ৫ ডিসেম্বর ডেথ রেফারেন্স আকারে বিচারিক আদালত থেকে হাই কোর্টে আসে।

এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন, জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশ, হাদিসুর রহমান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, আব্দুস সবুর খান, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন।

হলি আর্টিজান মামলা, অপেক্ষা মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের 1

হাই কোর্টের ডেসপাস (আদান-প্রদান) শাখা সেগুলো গ্রহণ করার পর তা ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সেসব নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে ডেথ রেফারেন্স শাখা পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠিয়ে দেয়। এখন বিজি প্রেস থেকে ছাপা শেষে উচ্চ আদালতের অনোমদন পেলেই মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া সাত জঙ্গির রায় কার্যকর করা যাবে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে ঢাকার গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস হামলা চালায় জঙ্গিরা। তারা অস্ত্রের মুখে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে। ভয়াবহ ওই হামলার ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়ে পুরো দেশ। সেদিন জঙ্গিরা কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে ২০ জন দেশি-বিদেশি নাগরিককে; যাঁদের মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, ১ জন ভারতীয় ও ৩ জন বাংলাদেশি। সেই রাতে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত হন।

আরও পড়ুন-