প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে মিলিয়ন মার্কিন ডলার দুর্নীতির দায়ে আনা সাতটি অভিযোগের সবগুলোতেই প্রথম বিচারে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনি। দেশটির আদালত নাজিব রাজাককে ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে

তার বিরুদ্ধে সাতটি ‘মিলিয়ন ডলার’ দুর্নীতির মামলা রয়েছে। এর আগে তিনি বিশ্বাস ভঙ্গ, মানি লন্ডারিং এবং ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন। এ মামলাটিকে আইনের শাসন এবং দুর্নীতি-বিরোধী প্রতিশ্রুতি বিষয়ে মালয়েশিয়ার অবস্থানের এক ধরণের পরীক্ষা মনে করা হয়।

ওয়ান মালয়েশিয়ান ডেভেলপমেন্ট বেরহাদ ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারির মাধ্যমে মূলতঃ বৈশ্বিক জালিয়াতি এবং দুর্নীতিতে দেশটির সম্পৃক্ততার বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে। ওয়ানএমডিবি প্রকল্পের ৪২ মিলিয়ন রিঙ্গিত অর্থাৎ ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ তৎকালীন মালয়েশিয়ান প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল।

২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন নাজিব রাজাক। তার বিরুদ্ধে ২০১৫ রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন বিনিয়োগ তহবিল ১এমডিবি’র ৭০ কোটি মার্কিন ডলার সরিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। নাজিবের গঠিত ওই তহবিল থেকে গায়েব হয়ে যাওয়া ওই অর্থের কোনো হিসেবও পাওয়া যায়নি। ক্ষমতায় থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত হয়নি।

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ১২ বছরের কারাদণ্ড 1
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক

২০১৮ সালের ৯ মে’র সাধারণ নির্বাচনে মাহাথির মোহাম্মদের কাছে হেরে যাওয়ার ক’দিন পর থেকেই নাজিবের বিরুদ্ধে নতুন করে দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়।

বিচারক মোহামেদ নাজলান মোহামেদ ঘাজালি কুয়ালালামপুর হাইকোর্টকে বলেছেন, “সব সাক্ষ্যপ্রমাণ বিবেচনা করে দেখা যাচ্ছে প্রসিকিউশন সন্দেহাতীতভাবে তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছে।”

প্রথমে তদন্তের স্বার্থে নাজিব ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে মালয়েশিয়ার ভ্রমণ কর্তৃপক্ষ। এরপর তার বাসভবনে হঠাৎ করেই তল্লাশি চালায় পুলিশ। তল্লাশিতে মোটা অংকের বৈদেশিক মুদ্রা এবং বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল পণ্য জব্দ করার কথা জানানো হয়।

সর্বশেষ ওই বছরের জুনের শেষদিকে পুলিশ জানায়, অভিযান চালিয়ে নাজিব রাজাকের বাড়ি থেকে ২৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যমানের জুয়েলারি সামগ্রী আটক করা হয়েছে। আটকের তালিকায় বিপুল পরিমাণ গহনা, হাতব্যাগ ও নগদ টাকা ছিল।

আরও পড়ুন-