কক্সবাজার

করোনায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। পর্যটকশূন্য কক্সবাজারে দিন কয়েক আগেই হঠাৎ সৈকতে ভিড় করতে দেখা গেছে শত শত স্থানীয়দের। কারণ, সৈকতে পাওয়া যাচ্ছে স্বর্ণ। কিন্তু আজ সকালে বিশ্বের দীর্ঘতম এই সমুদ্র সৈকত সয়লাব হয়ে গেছে শত শত টন বর্জ্য। প্লাস্টিক, ইলেকট্রনিক বর্জ্যের সঙ্গে ভেসে এসেছে ছেঁড়া নাইলনের জাল ও শত শত মদের খালি বোতল।

রোববার (১২ জুলাই) সকালে সরেজমিন গিয়ে এমনই দৃশ্য দেখা গেছে। কক্সবাজারের দরিয়ানগর থেকে হিমছড়ি পর্যন্ত প্রায় কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এসব বর্জ্য। গতকাল শনিবার মধ্যরাত থেকে হঠাৎ এসব বর্জ্য ভেসে আসতে শুরু করে। বর্জ্যের সঙ্গে ভেসে আসা নাইলনের ছেঁড়া জালে আটকে মারা গেছে অন্তত ১০টি সামুদ্রিক কচ্ছপ। এত বর্জ্য হঠাৎ কোথা থেকে এল তা অনুসন্ধান শুরু করেছে প্রশাসন।

সৈকতে ভেসে আসা বর্জ্যের মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিক, ইলেকট্রনিক পণ্য। এমন কি ভেসে এসেছে ছেঁড়া নাইলনের জাল ও শত শত বিভিন্ন প্রকারের মদের বোতল। এতে আটকে মারা যাচ্ছে কাছিমসহ সামুদ্রিক নানা ধরনের প্রাণী। পাশাপাশি চরমভাবে দূষণের কবলে পড়ছে পরিবেশ। ইতিমধ্যে মারা গেছে সামুদ্রিক কচ্ছপসহ কয়েক প্রকারের প্রাণী। আবার আটকেপড়া অনেক জীবিত কচ্ছপকে সমুদ্রে অবমুক্ত করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

কক্সবাজারভিত্তিক পরিবেশ সংগঠন সেভ দ্য নেচার অব বাংলাদেশ- এর চেয়ারম্যান আ ন ম মোয়াজ্জেম হোসাইন জানান, শনিবার রাত থেকে এ সব বর্জ্য আসতে শুরু করেছে। এর মধ্যে প্লাস্টিক, ইলেকট্রনিক বর্জ্য আর ছেঁড়া জাল দেখা গেছে।

হঠাৎ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের একি হাল! 1
কক্সবাজার সৈকতে ভেসে আসা বর্জ্য, মারা যাচ্ছে কচ্ছপ।

পরিবেশকর্মী আহমদ গিয়াস বলেন, কক্সবাজার সৈকতের সায়মন পয়েন্ট থেকে দরিয়া নগর পর্যন্ত বেশি বর্জ্য ভেসে আসতে দেখা যাচ্ছে। এসব বর্জ্যের মধ্যে প্লাস্টিক ও কাচেঁর বোতল, ড্রাম, ঝুঁড়ি, দড়ি ছাড়াও এসব বর্জ্যের সঙ্গে নৌবাহিনীর টুপির মতো বিভিন্ন কাপড় চোপড়ও ভেসে আসছে। আটকা পড়া কয়েকটি মরা কচ্ছপও দেখা যাচ্ছে।

আহমদ গিয়াস বলেন, বর্জ্যের সঙ্গে সমুদ্রের তলদেশের কিছু উদ্ভিদ, শেওলা দেখা যাচ্ছে। এতে মনে হচ্ছে কোন উপকূলীয় এলাকা সংলগ্ন সমুদ্র সৈকতের তলদেশে এসব বর্জ্যগুলো দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় শেওলাগুলো বর্জ্যের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে হয়ত এখন এসব বর্জ্য উপকূলে ভেসে আসছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, বিষয়টি তিনি শোনার সঙ্গে সঙ্গে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বর্জ্যগুলো কোথা থেকে এল এবং কিভাবে তা অপসারণ করা যায় তা দেখা হচ্ছে। বর্জ্য আটকে কয়েকটা কচ্ছপ মারা গেছে। এ ছাড়া সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অনেকগুলো জীবিত কচ্ছপ উদ্ধার করে তা পুনরায় সাগরে অবমুক্ত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ) আবু নাছের মো. ইয়াছিন জানান, ‘প্লাস্টিকসহ নানা ধরনের বর্জ্যে আটকা পড়েছে কাছিম। আমরা ঘটনাস্থলে একটা টিম পাঠিয়েছি। তারা কাছিমগুলোর চিকিৎসা নিশ্চিত করবে এবং সুস্থগুলোকে সাগরে ফিরিয়ে দেবে।’

আরও পড়ুন-