করোনাভাইরাস মৃত্যু coronavirus

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে দেশে (কোভিড-১৯) উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে ১৬৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করে বিপিও তাদের ‘কোভিড-১৯ গ্রাফিক্সে’ এ তথ্য তুলে ধরেছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি সপ্তাহে প্রতিবেদন দিচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের (সিজিএস) এই প্রকল্পটি। জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনডিপির আর্থিক সহায়তায় বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়েই নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বিপিও। মূলত করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দেশের ২৫টি গণমাধ্যমের সংবাদ বিশ্লেষণ করে ৮ মার্চ থেকে প্রতি সপ্তাহে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে।

২৫টি গণমাধ্যমের সংবাদ বিশ্লেষণ করে বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে বিপিও জানিয়েছে, ২২ মার্চ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ বা উপসর্গ নিয়ে ১৬৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ধরে পড়ে। প্রথম দুসপ্তাহে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর কোনো খবর সংবাদমাধ্যমে না পেলেও ২২ থেকে ২৮ মার্চের মধ্যে তিনজনের তথ্য সঙ্কলিত করে বিপিও। পরের সপ্তাহগুলোতে পর্যায়ক্রমে ৬৩, ১০৬, ১২০, ১১৪, ৯৩, ৫০, ৬৭, ৪৮, ৭৩, ১৫৪, ২০৬, ২০৫, ২২২ এবং সর্বশেষ সপ্তাহে ১৪৩ জন মিলে মোট ১ হাজার ৬৬৭ জনের মৃত্যুর তথ্য উঠে এসেছে তাদের প্রতিবেদনে।

উপসর্গ নিয়ে মৃতদের মধ্যে ৩৫৮ জন ঢাকা বিভাগের, ৫১৫ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ২০৮ জন খুলনা বিভাগের, ১৭১ জন রাজশাহী বিভাগের, ১৯৩ জন বরিশাল বিভাগের, ৯১ জন সিলেট বিভাগের, ৭৪ জন রংপুর বিভাগের ও ৫৭ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। করোনা রোগীর মতো উপসর্গ নিয়ে মারা

গেলেও তারা করোনা আক্রান্ত নাও হতে পারে। এটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব ক্ষেত্রে পরীক্ষা করে ৮৫ শতাংশের করোনা পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনে।

বিপিও তাদের গবেষণায় করোনার মহামারী ঘিরে সংঘটিত বেশ কয়েকটি ঘটনার তথ্যও তুলে ধরেছে। প্রতিবেদন বলছে ভাইরাসটি নিয়ে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে গত ৪ জুলাই পর্যন্ত ৮৪টি ঘটনায় ৮৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। এ ছাড়া ত্রাণ আত্মসাৎ, খাদ্যে ভেজাল ও করোনা ভাইরাস বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘনের মতো অনিয়ম ও অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে ১১ হাজার ২৩৮ জনকে।