চিকিৎসা সিন্ডিকেটের অর্ধেক লন্ডভন্ড হয়ে যাবে যদি সরকারী মেডিকেলের প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ময়লা আবর্জনার স্তুপ থাকার কারন অনুসন্ধান করা হয়। সরকারের বিশাল বাজেট পাওয়া সরকারী হাসপাতালের টয়লেটে আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতার কারন খুঁজতে গেলে বের হয়ে আসবে থলের বিড়াল।

রোগী ও আত্মীয়দের কাছে সরকারী মেডিকেলকে জাহান্নাম বানানোর প্রথম ধাপ হচ্ছে এই আবর্জনার স্তুপ। একজন রোগী ও তার আত্মীয় সরকারী হাসপাতাল বিমুখ হওয়ার প্রধান কারন সেই আবর্জনার দূর্বিষহ গন্ধ। এছাড়াও আছে মেশিন নষ্টের অযুহাত, যন্ত্রপাতির কৃত্রিম সংকট, লোকবল সংকটের অযুহাত সহ ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব কিছুই চলে ক্লিনিক ও ডায়গনষ্টিক সেন্টার ব্যবসাকে রমরমা রাখার জন্য। এসবে কারা জড়িত?

একশ্রেনীর অসাধু ব্যক্তি যারা ক্লিনিক ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারের মালিক। আবার এই অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে শেয়ার হোল্ডার হিসাবে থাকেন একশ্রেনীর অসাধু চিকিৎসক। যারা সরকারী হাসপাতালে এসব অপকর্ম কৌশলে করিয়ে থাকে। পুরা সিন্ডিকেটকে ছায়ার মতো সুরক্ষিত রাখে স্বাস্থ্য বিভাগ। সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে শুরু করে বিভাগীয় পরিচালকের অফিসের কর্মকর্তারা কেউ হাসপাতালের আসল চিত্র ঐ মন্ত্রনালয়ের শীর্ষে পৌছায়না। যার কারনে সিন্ডিকেটটি দিনে দিনে শক্তিশালী হয়। আর সেই শীর্ষ মহল অর্থ্যাৎ মন্ত্রনালয় তো চালাচ্ছেন দেশের সর্বোচ্চ মেধাবী সন্তানরা/আমলারা। তারা যেমনটি চাইছেন তেমনিই হচ্ছে।

একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ঝাড়ুদার থেকে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বোচ্চ মহল(মন্ত্রনালয়) এ যারা দায়িত্বরত আছেন তাদের মধ্যে একজন মাত্রই রাজনৈতিক নেতা আছেন যিনি মন্ত্রী। (রাজনৈতিক নিয়োগও আছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তবে তারাও পেশাজীবি) আর সেই মন্ত্রী যিনি সরকার পরিবর্তন হলে বিদায় নিবেন অন্যজন আসবেন। কিন্তু পুরা প্রশাসনে বছরের পর বছর যারা রয়ে যাচ্ছেন তারাই সিন্ডিকেটকে শক্তিশালী করছেন।

এভাবে চলতে থাকলে মন্ত্রী আসবেন আবার বিদায় হবেন। কিন্তু সমস্যার সমাধান কতটুকু হবে তাই প্রশ্ন! একটি ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়া মানেই পুরা ট্রেন টালমাটাল হওয়া! আগামীতে চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকারকে সুরক্ষিত করতে হলে ‘নিচ থেকে উপরে ঢেলে সাজাতে হবে’।

লিখেছেন- নূরুল আজিম রনি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ।