পুরানো রাস্তা

পূর্বশত্রুতা ও স্থানীয় কলহের জের ধরে শতাধিক বছরের বেশী সময় ধরে ব্যবহৃত পুরানো রাস্তা ইট-সিমেন্টের পিলার ও বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে পাশবর্তী বাড়ির লোকজন। তাতে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছে বেশ কয়েকটি বাড়ির মানুষ।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৯নং কড়ইয়া ইউনিয়নে ঘটেছে এমন ঘটনা। বন্ধ করে দেয়া সুবিদপুর ও মনোহপুর গ্রামের সংযোগ সড়কটি ব্যবহার করেন দুই গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার সহ পাশ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষ। কাঁচা রাস্তা হলেও সিএনজি-রিক্সার মতো যানবাহন চলাচল করে এই রাস্তায়। রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় অসুস্থ রোগী ও জরুরী সেবা প্রার্থীরা বিপাকে পড়েছেন বলে জানা যায়। কৃষি ফসল পরিবহনও পড়েছে অনিশ্চয়তায়, মাথায় করে পণ্য পরিবহণের কষ্ট ও ভোগান্তির কথা জানান স্থানীয় কৃষক মাসুদ।

রাস্তা ব্যবহারকারী কয়েকজন জানান, এই রাস্তায় গত তিন বছর আগে দুটি কালভার্ট সহ উন্নয়ন কাজ করে ইউনিয়ন পরিষদ। এই ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৬ মে। রোজা রেখেই কয়েকজন যুবক রাস্তা মেরামত করতে গেলে তাদের উপর পূর্বপরিকল্পিত ভাবে ওঁত পেতে থাকা হাজী মজিবুল হক ওরফে ‘মজু মাস্টার’ ও তার দলবল অতর্কিত হামলা চালায়। প্রতিবেদকের কাছে হামলায় নেতৃত্ব দেয়া মজিবুল হকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে গরু-ছাগল চোরদের সাহায্য এবং স্থানীয় মানুষের মাঝে কলহে তৈরীতে লিপ্ত থাকার অভিযোগও করেন স্থানীয়রা।

হামলায় আহত একজন জানান, মার খেয়ে স্থানীয় গণ্যমান্যদের কাছে বিচার চেয়েও পাইনি। উলটো চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। প্রথমে শুধু পিলার দিয়ে রাস্তা আটকানো হলেও গত পরশু (১২ জুন) তাতে বাঁশ দিয়ে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শত বছরেরও বেশী পুরানো এই রাস্তায় গতকাল (১৩ জুন) বিভিন্ন গাছের চারাও লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। রাস্তা আটকে দেয়ার মতো এমন বর্বর আচরণ কোন সভ্য সমাজে নিকট অতীতে ঘটেছে বলে শুনিনি। যেন অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে রাস্তা ব্যাবহারকারী সবাইকে। ঘটনার শুরু থেকেই বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান জানেন।

১০০ বছরের পুরানো রাস্তা বন্ধ, অবরুদ্ধ পাঁচ শতাধিক মানুষ 1
রাস্তা বন্ধ, মাথায় করে বস্তা নিয়ে যাচ্ছে একজন। পরের দিন রাস্তায় গাছ লাগানোয় হাটার সুযোগও নেই।

রাস্তার সুবিধাভোগীদের একজন মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহাবুব, পেশায় রিক্সাচালক। পথেই তার সাথে দেখা হয় প্রতিবেদকের। রাস্তা বন্ধ হওয়ায় বাড়ি থেকে রিক্সা বের করতে না পেরে জানালেন, আমি সাধারণ মানুষ, রিক্সা চালাই। করোনার কারণে এমনিতেই রোজগার নাই। রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় আজ দুইদিন রিক্সা নিয়ে বের হতে পারিনি। রিক্সা চালাতে না পারলে কাল কি খাবো জানিনা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাস্তাটির পাশেই ১৩ ফুট সরকারী খাস জমি আছে। কবর ও গাছ-পালা দিয়ে সেটি দখল করে রেখেছে রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়া লোকজন। ফলে বন্ধ করে দেয়া রাস্তাটি ব্যবহার হয়ে আসছে বিগত এক শতকের বেশী সময় ধরে। অভিযোগ আছে, রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার পিছনে কলকাঠি নাড়ছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। আর রাস্তা ব্যবহারকারীদের দাবী, এ সমস্যার দ্রুত সমাধান ও সরকারী খাস জমিতে রাস্তা দেয়ার।