মুক্তিযোদ্ধা

জমি দখলে নিতে দীর্ঘদিন ধরেই অপচেষ্টা চালাচ্ছে স্থানীয় বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান ভূঁইয়াকিন্তু গত ২৪ জুন সে আবার মারমুখী হয় জমির মালিক মুক্তিযোদ্ধা রনজিৎ এর ওপর। হুমকি দেয় প্রাণে মেরে ফেলার। কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বারইকান্দি গ্রামে ঘটেছে এমন ঘটনা।

দাউদকান্দি উপজেলার বারইকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা রণজিৎ রায় এবং তার কাকাতো ভাই নিত্যানন্দ রায়, স্থানীয় বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান ভূঁইয়ার সাথে জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিনের চলমান বিবাদ থানা-পুলিশ-আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এর মধ্যেই কিছু জমিতে ধর্মীয় স্থাপনা তৈরির পাশাপাশি দখল করেও রেখেছে মজিবুর। চলমান বিবাদের মধ্যেই দুইদিন আগে রনজিৎ রায়ের বাড়ির প্রবেশ পথ রোধ করে বেরা দেয় সে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপ এ তা সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় মজিবুর।

ভুক্তভোগীর মুক্তিযোদ্ধা রণজিৎ রায়ের ছেলে সৌরভ রায় গনমাধ্যমে জানান, আমার বাবা এ ঘটনার পর মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত, আমরা তাকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। তিনি আরও বলেন, থানা-পুলিশের হস্তক্ষেপে মজিবুর কিছুদিন চুপ ছিলেন। তবে দেশে করোনা মহামারির সময়ে সে নতুন করে জমি দখলের পায়তারা শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় জমির প্রবেশ পথে টিনের বেড়া দিয়ে পুরোপুরি আটকে দিয়েছিল মজিবুর।

স্থানীয় চেয়ারম্যান মনির তালুকদার জানান, মজিবুর বিএনপি করলেও তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদের যোগাযোগ আছে। তাই একবার গ্রেফতার হওয়ার পরেও ছাড়া পেয়ে আবার এসে জবর দখল শুরু করেছে। সে আরও কয়েকটি হিন্দু পরিবারের জায়গা জমি কিনে টাকা না দিয়ে তাদের উৎখাত করেছে।

ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা রণজিৎ রায় জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী তথা মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারাদেশে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই নির্দেশনা মেনেই আমার ও কাকাতো ভাইয়ের বসত বাড়ির অব্যবহৃত জমিতে বৃক্ষরোপণের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। স্থানীয় একজনকে দিয়ে শনিবার জমিতে গর্ত করে রোববার সকালে সেই গর্তে আরও কিছু কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু পরে জানতে পারি, মজিবুর আমার বাড়ির প্রবেশ পথ বন্ধ করে বেড়া নির্মাণ করেছে। মূলত আমার ও কাকাতো ভাইয়ের অবশিষ্ট জমি দখলের জন্যই দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যু মজিবুর আমাদের পরিবারের ওপর নানা রকম অত্যাচার করে আসছে।’

নির্যাতিত মুক্তিযোদ্ধা রনজিৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তাকে প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে মারতে আসার ও দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের উপর চালানো অত্যাচারের বিচার প্রত্যাশা করেন।