শেখ হাসিনা

ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ কিংবা স্বৈরাচারীর পতন- কোথায় নেই আওয়ামী লীগ? এদেশের রক্ত দিয়ে যত অর্জন আছে, সে সব অর্জনের সবচেয়ে বড় অংশীদার আওয়ামী লীগ। প্রতিষ্ঠার ৭১ বছর পেড়িয়ে আজ ৭২- এ পা দিয়েছে, এখনও চির যৌবন ধরে রেখেছে গণমানুষের দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

দ্বি-জাতি তত্বের ভিত্তিতে সিমানায় কাঁটা তার তুলে ভারত-পাকিস্তান নামে ভেঙ্গে দেয়া ভারতীয় উপমহাদেশে যখন সাম্প্রদায়িকতা চরমে। তখন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল রাজনৈতিক আন্দোলনের, আর সে অনিবার্য প্রয়োজন থেকেই ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ (জনগণের বা সাধারণের মুসলিম লীগ)।

১৯৪৯ সালের আজকের এই দিনে পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে (হুমায়ুন সাহেবের বাড়ি) এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে জন্ম হয় বর্তমান বাংলাদেশকে উন্নয়নের শিখরে তোলা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের। প্রতিষ্ঠার সময়ে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ নাম ধারণ করলেও ১৯৫৫ সালে ধর্মনিরপেক্ষতাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে দলের নামকরণ করা হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ৬৬-এর ৬ দফা, ৬৯-এর গণআন্দোলনসহ দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে বাঙালি জাতি। পৃথিবীর মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। স্বাধীনতার পর থেকেই জাতি গঠনের প্রতিটি সোপানে-স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে আওয়ামী লীগ।

ঢাকার স্বামীবাগে কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে গঠন করা পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি করা হয় মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী’কে, সাধারণ সম্পাদক টাঙ্গাইলের শামসুল হক, শেখ মুজিবুর রহমানকে (কারাবন্দি ছিলেন) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এটিই আওয়ামী (মুসলিম) লীগের প্রথম কমিটি।

স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া আওয়ামী লীগ’কে ধ্বংস করে দেয়ার সবচেয়ে বড় আঘাত আসে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর অনেকটা অস্তিত্ব সংকটেই পড়ে আওয়ামী লীগ। দলের ভেতরেও শুরু হয় ভাঙন। আব্দুল মালেক উকিল-জোহরা তাজউদ্দীনের দৃঢ়তায় সে সংকট কাটিয়ে উঠতে শুরু করে দলটি। ১৯৮১ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা, স্বৈরাচারী সেনা শাসক জিয়ার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দেশে ফিরে দলের হাল ধরেন তিনি। এরপর এক দশক ধরে সারা দেশ ঘুরে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নকে পুনরুজ্জীবিত করে দলকে সংগঠিত করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বৈরাচারবিরোধী তীব্র গণআন্দোলনও হয় তার নেতৃত্বে। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বেই ২১ বছর পর সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে কলকাঠি নেড়েছিলো যারা, তাদের উত্তরসূরিদের চক্ষুশূলে পরিণত হন শেখ হাসিনা। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে আরেকটি কালো অধ্যায় রচিত হয়। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের স্পষ্ট অংশগ্রহণে উপর্যুপরি গ্রেনেড নিক্ষেপ করে মেরে ফেলা চেষ্টা করা হয় শেখ হাসিনাকে। প্রাণে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধু কন্যাকে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বুলেটের বিরুদ্ধে ভোটের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ ভাবে বিজয়ী করে এ দেশের মানুষ। আবার সরকার গঠন করে দলটি। সেই থেকে টানা তিন মেয়াদে সরকারে রয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রতিষ্ঠার ৭১ বছরের পথ চলায় রক্তে রঞ্জিত রাজপথকে সঙ্গী করে, শত্রুর বুলেট কিংবা গ্রেনেড উপেক্ষা করে বাংলাদেশের মানুষের পাশে ঢাল হয়ে অবিচল হাঁটছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

আরও পড়ুন-