মাশরাফি

করোনাভাইরাসের ক্রান্তিকালে নড়াইলবাসীর সামনে যেন সাক্ষাৎ এক দেবদূত হিসেবে আবির্ভুত হয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্ত্তজা। টেলিমেডিসিন সেবা চালু, হাসপাতালের প্রবেশ মুখে জীবাণুমুক্তকরণ চেম্বার ও কৃষকের ধান কাটার জন্য আধুনিক হার্ভেস্টিং মেশিন কিনে দিয়েছেন। এছাড়া দিনভর নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের পাশে তো থকছেনই। আর আজ নিলামে তুলেছেন পথচলার ১৬ বছরের সঙ্গীকে ব্রেসলেট’কে, যা বিক্রি হয়েছে ৪২ লাখ টাকায়।

অসহায় ও অনাহারীদের মুখে এক চিলতে হাসি ফোটাতে প্রিয় সঙ্গীকে নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লাল-সবুজের ক্রিকেটের জীবন্ত এই কিংবদন্তী। প্রথমে যদিও খোলাসা করেননি কি সেই সঙ্গী, তবে দিন কয়েক আগেই জানা গেলো ‘সঙ্গী’র নাম। করোনায় সেলিব্রেটিদের প্রিয় সব জিনিশ নিলামে তুলে সেখান থেকে প্রাপ্ত অর্থ অসহায়দের মাঝে তুলে দেয়ার উদ্দেশ্যে গড়া প্লাটফর্ম ‘অকশন ফর একশন’- এর ফেসবুক লাইভে আয়োজন হয় এই নিলামের। নিলামের লাইভে অংশ নিয়েছেন মাশরাফি নিজেও।

রাত এগারোটায় শুরু হওয়া নিলামে আলোচনা ও ভক্তদের নানান প্রশ্নের উত্তর দেন মাশরাফি। ভিত্তিমূল্য ছিল ৫ লাখ থেকে সোয়া এক ঘণ্টার নিলামে ৪২ লাখ টাকায় ব্রেসলেট’টি কিনে নিয়েছে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বিএলএফসিএ। নিলামের সর্বোচ্চ দর ছিল ৪০ লাখ। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাড়িয়ে দিয়েছে আরও ৫ ভাগ। তাতে চূড়ান্ত মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪২ লাখ টাকা।

ব্রেসলেট সম্পর্কে মাশরাফি জানান- “গত ১৮ বছরে খুব কম সময়ই এটি খুলেছি হাত থেকে। অপারেশনের সময়, এমআরআই করানোর সময় খুলতে হয়েছে। আর কয়েকটি ম্যাচ বা কিছু সময়ের জন্য খুলেছি শুধু। তবে যখনই খুলেছি, কখনোই স্বস্তি বোধ করিনি। মনে হতো, কী যেন নেই, খালি খালি লাগত। আমার সবসময়ই মনে হয়েছে, এটি আমার সৌভাগ্যের প্রতীক।”

লাইভে যুক্ত ছিলেন বিএলএফসিএর চেয়ারম্যান মমিন উল ইসলাম, চমক দেখিয়েছেন তিনিও। ব্রেসলেট কিনে নিয়ে সেটি আবার মাশরাফিকেই উপহার দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। করোনাকাল কেটে গেলেই আনুষ্ঠানিক ভাবে তারা এটি মাশরাফির হাতে তুলে দিবে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। এর মধ্যে হাত থেকে খুলে ফেলা ব্রেসলেটটি মাশরাফি পরবেন না বললে, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ব্রেসলেটটি মাশরাফিকে পরে থাকতে অনুরোধ জানান এবং অনুষ্ঠানের আগে তাদের দিলেই হবে বলে জানান।

এর আগে সাকিব আল হাসানের বিশ্বকাপ কাঁপানো ব্যাট নিলামে বিক্রি হয়েছে ২০ লাখে, সৌম্য সরকার ও তাসকিন আহমেদের ব্যাট-বল বিক্রি হয় সাড়ে ৮ লাখ টাকায়। সংগীতশিল্পী তাহসানের প্রথম অ্যালবাম ‌‘কথোপকথন’-এর মাস্টার ডেট কপি দাম উঠল সাড়ে সাত লাখ টাকা। মুশফিকের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো ব্যাট ১৭ লাখ টাকায় কিনেন পাকিস্থানের আফ্রিদি। আর নিলামেও সবাইকে ছাপিয়ে মাশরাফির ব্রেসলেট বিক্রি হলো ৪২ লাখ টাকায়, এখানেও সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা।

আরও পড়ুন-