কিশোর কুমার দাশ

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে সমালোচনার মুখে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির প্রধান পদ থেকে কিশোর কুমার দাশ গত মাসেই পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ফাউন্ডেশনে কার্যনির্বাহী পর্ষদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেও তা গ্রহণ করেনি বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

এ ব্যাপারে বিদ্যানন্দের স্বেচ্ছাসেবক পর্ষদের সদস্য তানিয়া ইসলাম তন্নী বলেন- গত মার্চ মাসে চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা দিয়ে তুলনামূলক ছোট পোস্টে দায়িত্ব পালনের ইচ্ছার কথা জানান বিদ্যানন্দের প্রতিষ্ঠাতা। শারীরিক এবং মানসিক ক্লান্তি, নতুন নেতৃত্বে কাজকে বেগবান করা এবং আত্মত্যাগে স্বেচ্ছাসেবকদের অনুপ্রাণিত করাকে তিনি কারণ হিসেবে দেখান। তবে মিথ্যা অপপ্রচার এই সিদ্ধান্তে অনেকটা প্রভাবিত করেছে।

তিনি জানান- “কিশোর কুমার দাশ এর চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের আবেদন নির্বাহী কমিটির মেম্বাররা গ্রহণ করেননি। তাই কিশোর কুমার দাশ এখনও চেয়ারম্যান পদে আছেন এবং সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুসারে আমরা উপযুক্ত সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।”

সুহাসিনী শ্রাবন্তি আরও বলেন- “ব্যক্তির চেয়ে কাজটিকে সবসময় বড় করে দেখেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। তাই যে কোন সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানের কাজ, গ্রহণযোগ্যতা এবং অগ্রযাত্রা যাতে ব্যহত না হয়, সে চেষ্টাই আমরা করবো। তবে আমরা চাই যতদিন বিদ্যানন্দ থাকবে ততদিন কিশোর কুমার দাশ আমাদের পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবেন।”

এর আগে বিদ্যানন্দের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে কিশোর কুমার দাশের পদত্যাগের কথা জানানো হয়। যার কারণ হিসেবে সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারকে তারা উল্লেখ করেন। পর দেশব্যাপী বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদের ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। হিন্দু ধর্মের মানুষ হওয়ায় তাকে অপসারণের দাবি ও অপপ্রচারের ব্যাপারে সচেতন মহল ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন। অনেকেই পদত্যাগের প্রস্তাবকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মন্তব্য করেন।

পদত্যাগের কারণ হিসেবে বিদ্যানন্দ’র ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘বিদ্যানন্দ’ নামটি দিয়েছেন এক মুসলমান ব্র্যান্ড এক্সপার্ট। ‘আনন্দের মাধ্যমে বিদ্যা অর্জন’ স্লোগানের সাথে মিল রেখে তিনি নামটি দিয়েছিলেন। অনেকেই এটাকে ব্যক্তির নাম থেকে ভেবে ভুল করেন। এ জন্য আমরা দুই বছর আগে নাম পরিবর্তনের পক্ষে-বিপক্ষে ভোটে করি এবং স্বেচ্ছাসেবকরা নাম পরিবর্তনের বিপক্ষে ভোট দেন।

‘বিদ্যানন্দের প্রবাসী উদ্যোক্তা সশরীরে খুব অল্পই সময় দিতে পারেন। ৯০ শতাংশ মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকই চালিয়ে যান প্রতিষ্ঠানটির বিশাল কর্মযজ্ঞ। তবুও উদ্যোক্তার ধর্ম পরিচয়ে অনেকেই অপপ্রচার চালায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে। যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কার্যক্রম, অনুদানের গতি।’

এতে আরও বলা হয়, ‘গত মাসেই বিদ্যানন্দের প্রধান পদত্যাগের কথা জানিয়ে দেন স্বেচ্ছাসেবকদের। সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারে নয়, বরঞ্চ ব্যক্তিগত ত্যাগে স্বেচ্ছাসেবকদের অনুপ্রাণিত করার এবং নতুন মেধায় প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করার স্বপ্নে এমন সিদ্ধান্ত তার। তিনি প্রধানের পদ ছাড়লেও বিদ্যানন্দ ছাড়ছেন না, বরঞ্চ সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা বিষয়টি প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম চলমান ক্যাম্পেইনের পরে। কিন্তু কিছুদিন ধরে চলা মাত্রাতিরিক্ত অপপ্রচারে জল ঢালতে খবরটি আজকে শেয়ার করলাম।’