করোনা ভাইরাসে থমকে গেছে সারাদেশ। সারা বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে জ্যামিতিক হারে দেশব্যাপী বাড়ছে আক্রান্তের হার। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে করোনা মোকাবেলায় আর্ত মানবতার সেবায় অনেকেই ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভূমিকা সারাদেশব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত হয়। করোনার প্রাদুর্ভাব দিন দিন যেমন বাড়ছে, তেমন ছাত্রলীগের ব্যতিক্রমী কার্যক্রম নানাভাবে খবরের শিরোনাম হচ্ছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্য-নির্বাহী সংসদের সাবেক সদস্য, নারী নেত্রী ‘আকলিমা আক্তার এশা’। করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই তিনি জনমানুষের পাশে রয়েছেন। এই ছাত্রলীগ নেত্রীর নানা কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। তার ব্যতিক্রমী কার্যক্রম বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় খবরের শিরোনাম হয়েছে।

গতকাল ১৯শে মে সোমবার ঢাকার মিরপুর-৬ এলাকার সি ব্লকে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশে নিম্ন মধবিত্ত মানুষের মাঝে উপহার বিতরণ করেছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে আকলিমা আক্তার এশা জনতারমুখ’কে বলেন, ‘মিরপুর-৬ আমার জন্মস্থান। এই এলাকাতে যারা একদমই দিন আনে দিনে খায়, এমন পরিবার রয়েছে তাদের পাশে দাঁড়ানোর একটু চেষ্টা করেছি। বাকি যে কদিন রোজা আছে সে কদিনের জন্য কিছু ইফতার সামগ্রী আর ঈদের দিনের জন্য সেমাই, দুধ আর চিনি দিয়ে আসলাম এমন কিছু পরিবারদের যারা শুধু মাত্র এই করোনা পরিস্থিতির কারনে এক বেলা খেলেও পরের বেলাই না খেয়ে থাকতে হচ্ছে কিন্তু তারা আবার রাস্তায় দাঁড়িয়ে কারো কাছে হাতও পাততে পারছে না! প্রতিবছরই ঈদের আগে আমি আমার ক্ষুদ্র সামর্থ্য নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে এসেছি।
অন্য বছর ঈদের আগে পথশিশুদের এবং এতিমদের জামা কাপড় উপহার দিয়ে থাকলেও এবারের পরিস্থিতিটা ভিন্ন। তাই এ বছর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশে জাবি ছাত্রলীগের পক্ষে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষুদ্র চেষ্টা করে যাচ্ছি, যতটুকু আল্লাহ আমাকে সামর্থ্য দিয়েছেন।’

তিনি প্রত্যাশা করেন, ‘এভাবে সমাজের উচ্চ শ্রেনীর মানুষগুলো যদি নিজ নিজ স্থান থেকে সকলের পাশে এসে দাড়াই তাহলে এই অদৃশ্য যুদ্ধে জিতে যাবে বাংলাদেশ, জিতে যাবো আমরা।’

উল্লেখ্য, এর আগে তিনি নিজ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর ও রেডিও কোলনী এলাকায় তালিকা করে নিম্ন-মধ্যবিত্তদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহযোগীতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অভুক্ত থাকা বিভিন্ন প্রানীদের খাবার জোগান করে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন।