সুপার সাইক্লোনে রূপ নিয়েছে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’। বর্তমানে এটি উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। চলতি শতাব্দীতে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এটিই প্রথম সুপার ঘূর্ণিঝড়। এর আগে ২০০৭ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরও সুপার ঘূর্ণিঝড় ছিল না।

সোমবার মধ্যরাতে আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাতে ১২টার দিকে আম্পান চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৩০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

রাত ৯টার বিজ্ঞপ্তিতে আম্ফান সমুদ্রবন্দর থেকে ১০২০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৬০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

অর্থাৎ তিন ঘণ্টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের দিকে ৩৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরের দিকে ৩০ কিলেমিটার, মোংলা সমুদ্রবন্দরের দিকে ৩৫ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরের দিকে ৩৫ কিলোমিটার এগিয়েছে। আম্পান পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে সবচেয়ে কাছে অর্থাৎ ৮৭৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আম্পান উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে মঙ্গলবার শেষরাত থেকে বুধবার বিকাল অথবা সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

সুপার সাইক্লোন কেন্দ্রের ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ২৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুপার ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষু্ব্ধ রয়েছে।

মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৭ (সাত) নম্বর নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।   উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি বাংলাদেশের সাতক্ষীরার শ্যামনগর দিয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮০-২৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। সাতক্ষীরা হয়ে এটি খুলনার ভেতর দিয়ে যশোর, পাবনা হয়ে রংপুরের ওপর দিয়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ড অতিক্রম করতে পারে। তবে এই পথ দিয়েই যে ঘূর্ণিঝড়টি যাবে, তা শতভাগ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সাধারণত এ ধরনের ঘূর্ণিঝড় খুব দ্রুত গতিপথ বদলাতে পারে। তবে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা নাগাদ নিশ্চিত হওয়া যাবে ঘূর্ণিঝড়টি কোথায় কোথায় আঘাত হানতে পারে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি প্রবল শক্তি নিয়ে বঙ্গোপসাগর থেকে বাংলাদেশের দিকে মুখ করে এগোচ্ছে। গত এক যুগে বাংলাদেশে যে কয়টি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে, এটি তার মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী বলে মনে হচ্ছে। ফলে আমাদের সর্বোচ্চ সাবধানতা ও প্রস্তুতি নিতে হবে।’