করোনাভাইরাসের মহামারি প্রতিরোধে তামাকজাত পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সোমবার (১৮ মে) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব খাইরুল আলম শেখ ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮’এর  ক্ষমতাবলে এই আদেশ জারি করেন। 

আদেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, তামাক গ্রহণ কোভিড-১৯’এর সংক্রমণ বাড়িয়ে তোলে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তামাক গ্রহণে নিরুৎসাহিত করেছে। এর কারণ হিসেবে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সিগারেট খাবার সময় হাতের আঙুলগুলো ঠোঁটের সংস্পর্শে আসে এবং এর ফলে হাতে (বা সিগারেটের গায়ে) লেগে থাকা ভাইরাস মুখে চলে যাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

যুক্তরাজ্যে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক একটি দাতব্য সংস্থা অ্যাশের প্রধান নির্বাহী ডেবোরা আর্নট বলছেন, যারা ধূমপান করেন তাদের উচিত করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে ধূমপান কমিয়ে ফেলা কিম্বা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া। “ধূমপায়ীদের শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাদের নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি যারা ধূমপান করেন না তাদের দ্বিগুণ।”

এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে করোনাভাইরাস ধুমপায়ীদের মারাত্মক ক্ষতি করে। অধুমপায়ীদের চেয়ে একজন ধুমপায়ীর করোনাভাইরাসে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৪ ভাগ বেশি থাকে। 

এ বিষয়ে ওই আদেশে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছেও সহায়তা চাওয়া হয়েছে। 

এর আগে প্রতিবেশী ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ তামাকজাত পণ্যের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হচ্ছে।