চট্টগ্রাম হল দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। যদিও কাজির গরুর মত কিতাবে আছে গোয়ালে নেই। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে চট্টগ্রাম। পাকিস্তানী বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে চট্টগ্রাম। ছয় দফা দাবীর সমর্থনে প্রথম সমাবেশ এই চট্টগ্রাম থেকে। বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রথম পাঠ এই চট্টগ্রাম থেকে।মুক্তিযুদ্ধেও অগ্রণী ভূমিকায় চট্টগ্রাম। শেখ হাসিনার উপর হামলায় মানবঢাল তৈরী করেছিল এই চট্টগ্রাম। দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের অন্যতম জায়গা হল এই চট্টগ্রাম। বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে চট্টগ্রাম। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম সারথী হল চট্টগ্রাম।

এত কিছু দিল বাংলাদেশকে বিপরীতে কি পেল চট্টগ্রাম? হিসাবের খাতা খুললেই দেখবেন শূন্য।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রাম (আয়তনে এবং জনসংখ্যায়)। করোনায় ঢাকার পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হল চট্টগ্রামের মানুষ। অল্প ক’দিনে প্রথম স্থান দখল করব ইনশাআল্লাহ। দেশ এই চট্টগ্রামের জন্য কি করেছে? কিছুই না।

করোনা চিকিৎসার জন্য বর্তমানে চট্টগ্রামে ৪ টি হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে।
-এর মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে সিট আছে ১০০ টা ও ১০ টা আইসিইউ।
-চট্টগ্রাম মেডিকেলে আছে ১০০ টা সিট, এখনো আইসিইউ সংযোজন হয়নি।

  • বিআইটিআইডিতে সিট আছে ৫০ টা, কোনো আইসিইউ সিট নাই।
  • চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালে সিট আছে ৬০ টার মতো। এখনো আইসিইউ স্থাপন করা হয়নি।

উপরের পরিসংখ্যানটি দেখলে বুঝা যায় কি বেহাল অবস্থা। আক্রান্ত ৫০০০ সিট ৩০০। ক’দিন পর আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ১০০০০। অত সংখ্যক মানুষকে জায়গা দিবেন কই? নাকি রাস্তায় মরে পড়ে থাকতে হবে?

চট্টগ্রামে নেতা ,মন্ত্রী শিল্পপতির অভাব নেই। কিন্তু কারো যেন চিন্তাই নেই চট্টগ্রাম নিয়ে। নেতারা আছেন গ্রুপ রাজনীতি নিয়ে। জাতির এমন ক্রান্তিকালে কে কাকে ল্যাং মারবে এই চিন্তায় ব্যস্ত তারা।

চট্টগ্রামের মানুষ সচেতন হোন। নিজেদের নায্য অধিকার আদায়ে সোচ্চার হোন। আর কত ঠকবেন? এবার একটু শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়ান। নেতাদের বলুন ,না হয় তাদের ত্যাগ করুন। চিকিৎসা সেবা পাওয়া আমাদের মৌলিক অধিকার।

লিখেছেন- আবু হেনা মোস্তফা কামাল, অনলাইন এক্টিভিটিস্ট।