আশরাফুজ্জামান দিনার dinar ashraf

আমরা যখন মেডিসিন ক্লাবে যাওয়া আসা শুরু করি, তখন দেখতে ভালো কিন্তু খুব শয়তান ধরনের একটা লোক ছিলো প্রেসিডেন্ট। কেন শয়তান ছিলো এই লোক? কারন আমাদের মতো হতদরিদ্র মানুষদের রাতের খাবারের প্লেট থেকে সবেধন নীলমনি ডিম ভাজা নিয়ে আস্তটাই মুখে দিয়ে খেয়ে ফেলতেন। এবং এই কারনে এক প্লেট খিচুড়ি আমাদের শুকনো শুকনো খেতে হতো। নিজে কোন প্র‍্যাক্টিকাল খাতা লিখেন নাই, সব আমরা তিন রুমমেইট লিখে দিয়েছি, না দিলে কঠিন ঝামেলা হবে ধরনের থ্রেট খেয়ে আমাদের এই কাজ করতে হয়েছে। ক্লাবে দেখি এই শয়তান লোক ৪ মাসের আগেই রক্ত দিয়ে দেন দরকার হলেই।

তো এই লোক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করে বেরিয়ে গেলেন। বিসিএস হয়ে গেলো। ঢাকায় এসেই ছিনতাইকারীদের হাতে আচ্ছা করে কোপানি খেয়ে গেলেন। কোপ খেয়ে মাথা আউলা হয়ে গেলো, একটা হাত ছোট হয়ে গেলো। উনার ছিনতাই কপাল বলে দ্বিতীয় দফায় ছিনতাই কারীদের কোপ খেয়ে হাইটও এক ইঞ্চি কমে গেলো। হাইট কমে যাওয়া এবং মাথা আউলা হয়ে যাওয়ায় তিনি ক্রিটিকাল কেয়ার মেডিসিনে এমডি করে ফেললেন। নিজে আউলা বলে তার মোবাইল ও আউলা থাকে। খুব দাম দিয়ে কেনা মোবাইলের ক্যামেরাও নষ্ট হয়ে যায়, তখন তিনি নিজের মোবাইল দিয়ে সেল্ফি তোলার ভাব করেন, পাশ থেকে ছবি তোলার দৃশ্য অন্য কেউ তুলে উনাকে মেসেঞ্জারে দিয়ে দেন।

গল্পটা একজন 'ফ্রন্টলাইন' যোদ্ধার! 1
ছবির মানুষটিআশরাফুজ্জামান দিনার।

বিসিএস এর ম্যালা ঘ্যাম এর পর পোষ্টিং হলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, আইসিইউ’তে। কোভিড-১৯ এই প্রকোপে (জনগনের মতানুযায়ী সব ডাক্তার যখন পালিয়ে ঘরের খাটের নীচে ঢুকে বসে আছে) কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালের এক বড় ভাই তাকে জিজ্ঞাসা করলেন করোনা আক্রান্ত দের জন্যে বানানো, ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে যাবেন কিনা, “তেউল্লাচোরা ছাড়া আমি কিছুরে ডরাই না”- এই টাইপ আউলা কথাবার্তা বলে উনি চার হাত-পায়ে রাজী হয়ে গিয়েছেন। এখন ওখানেই ডিউটিতে আছেন।

কোভিড-১৯ এর বিপক্ষে, বাংলাদেশের পক্ষের ফ্রন্ট লাইন ফাইটারদের একজন এখন এই লোক। নাম, আশরাফুজ্জামান দিনার, পেশায় চিকিৎসক। কেউ এই মানুষগুলোকে ধন্যবাদ না দিক, দরকার ও নেই, গালাগালিটা যেন না করে।

প্রিয় দিনার ভাই, এই সংকট কাইট্টা গেলে আবারও ধানমন্ডি স্টারে পেটচুক্তি কাবাব-পরোটা কায়াম। ফালুদা কায়াম। স্টারেত্তে বাইর হইয়া পান কায়াম। ফ্যাক ফ্যাক হাসি দিয়া দুনিয়া উড়ায়ালবাম। বালা থাকবাইন, ভাই। প্রাউড অফ ইউ, ভাই।

লিখেছেন- ডাঃ মানিক চন্দ্র দাস