দেশে কোন একটা পরিস্থিতি তৈরি হলে কিছু লোক কথায় কথায় বলে পাকিস্তান আমলেই ভালো ছিলো বা ভালো ছিলাম! হে পাকিস্তান আমলে ভালো ছিলাম বা ভালো ছিল বলা প্রজন্ম কতটুকু জানেন যুদ্ধে নারী নির্যাতনের ভয়াবহতা সম্পর্কে? আসুন একটু জেনে নেই…

২৫ মার্চ ১৯৭১ সালে রাতে সুইপার রাবেয়া খাতুন রাজারবাগ পুলিশ লাইনের এস এফ ক্যান্টিনে ছিলেন। পুলিশদের প্রতিরোধ ব্যর্থ হবার পরে ধর্ষিত হন রাবেয়া খাতুন। সুইপার বলে প্রাণে বেঁচে যান কারণ রক্ত ও লাশ পরিষ্কার করার জন্য তাকে দরকার ছিল পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর। সেসময়ের পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ধর্ষণের যে বর্ণনা দিয়েছেন তা শুনে আপনি মানুষ হলে নির্বাক হয়ে যাবেন! অত্যাচারের ধরন এমন যে নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা, ভয়াবহতা, বর্বরতা অর্থাৎ শব্দকোষের যে কোন শব্দই বেমানান!

২৬ মার্চ ১৯৭১ সাল, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেয়েদের ধরে আনা হয়। আসা মাত্রই সৈনিকরা উল্লাসে ফেটে পড়ে। তারা ব্যারাকে প্রবেশ করে প্রতিটি যুবতী, মহিলা এবং বালিকার পরনের কাপড় খুলে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে ধর্ষণে লিপ্ত হয়। রাবেয়া খাতুন ড্রেন পরিষ্কার করতে করতে এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করতেন।

পাক সেনারা ধর্ষণ করেই থেমে থাকেনি, সেই
মেয়েদের বুকের স্তন ও গালের মাংস কামড়াতে
কামড়াতে রক্তাক্ত করে দিতেন, মাংস তুলে নিতেন। মেয়েদের শরীর কামড়ে রক্তাক্ত করে দিতেন। এভাবে চলতে থাকতো প্রতিদিন। যেসব মেয়েরা প্রাথমিকভাবে প্রতিবাদ করত তাদের স্তন ছিড়ে ফেলা হত, যোনি ও গুহ্যদ্বা্রের মধ্যে বন্দুকের নল, বেয়োনেট ও ধারালো ছুরি ঢুকিয়ে হত্যা করা হত!

বহু কম বয়সী বালিকারা উপর্যুপরি ধর্ষণে নিহত হয়। এর পর লাশগুলো ছুরি দিয়ে কেটে বস্তায়
ভরে বাইরে ফেলে দেয়া হত। হেড কোয়ার্টারের দুই, তিন এবং চারতলায় মোটা রডের সাথে চুল বেঁধে এই মেয়েদের ঝুলিয়ে রাখা হত। এইসব ঝুলন্ত মেয়েদের কোমরে নিয়মিত আঘাত করা হত। কারো কারো স্তন কেটে নেয়া হত, হাসতে হাসতে যোনিপথে ঢুকিয়ে দেওয়া হত লাঠি এবং রাইফেলের নল!

কোন কোন সৈনিক উঁচু চেয়ারে দাঁড়িয়ে উলঙ্গ মেয়েদের বুকে দাঁত লাগিয়ে মাংস ছিড়ে নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ত। কোন কোন মেয়ের সামনের দাঁত ছিল না, ঠোঁটের দু’দিকের মাংস কামড়ে ছিঁড়ে নেয়া হয়েছিল, প্রায় প্রতিটি মেয়ের হাতের আঙ্গুল ভেঙ্গে থেতলে গিয়েছিল লাঠি আর রডের পিটুনিতে! কোন অবস্থাতেই তাঁদের হাত ও পায়ের বাঁধন খুলে দেয়া হত না! অনেকেই মারা গেছে ঝুলন্ত অবস্থায়!

এটি একটি ঘটনা মাত্র, যা রাজারবাগ পুলিশ লাইনের সুইপার রাবেয়ার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। এমন হাজারো ঘটনা রয়েছে, যা হার মানায় মানুষের কল্পনার জগতের শক্তিকেও!

তারপরেও পাকি প্রজন্মের একটা অংশ বলবে, পাকিস্তান আমলেই ভালো ছিলো!

লিখেছেনসাদ বিন কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক, ডাকসু