উহান করোনাভাইরাস (2019-nCOV),

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী(২৭.০১.২০২০), করোনা ভাইরাসে শেষ একদিনের মাথায় মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৮০ জনে, গতকল অব্দি যেখানে ছিলো ৫৬ জন!
এখন অব্দি আক্রান্ত ব্যাক্তির সংখ্যা দাড়িয়েছে ২৭৬২ জনে, গতকাল যার সংখ্যা ছিলো ২০০০ এর মতন এবং সাসপেক্টেটেড রোগীর সংখ্যা এখন অব্দি ৫৭৯৪ জনের মতন!
এর মধ্যে ৪৬১ জনের অবস্থা আশংকা জনক, এখন অব্দি এ ভাইরাসে আক্রান্ত হবার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫১ জন!

রোগীদের পাশাপাশি, তাদের কাছাকাছি অবস্থানরত ৩২৭৯৯ জন আত্মীয়-স্বজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে! তাদেরও প্রতিনিয়ত মেডিকেল অবজারভেশনে রাখা হয়েছে!
এখন অব্দি পাওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজধানী বেইজিং এ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫১ থেকে ৬৮ জনে দাড়িয়েছে!

বাংলাদেশ সরকারের উচিত অতিশীঘ্রই জোরালো ব্যাবস্থা গ্রহন করা, জোরালো ভাবে প্রচারনা চালিয়ে জনগনকে সচেতন করা! দেশবাসী সুস্থ থাকলে নির্বাচনী প্রচারণা পরেও করা যাবে, আপাতত এই ভাইরাস নিয়ে ভাবুন! আসলেই বাংলাদেশের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে, যদিও এটা সব দেশের জন্যই খুব বড় একটা বিপদ, তারপরও আমার দেশের সরকার কিভাবে এই আসন্ন সমস্যা মোকাবিলা করে সেটাই দেখার বিষয়!
বাংলাদেশের মতন এমন একটা ঘনবসতিপূর্ন দেশে এ ভাইরাসের আক্রমন আসলেই ঘুম হারাম করার জন্য যথেষ্ট!

এই ভাইরাসের ইনকিউভেশন টাইম সর্বোচ্চ ১৪ দিন এবং সর্বনিম্ন ৫ দিন, এই ইনকিউবেশন সময়টাতেই এরা বেশি ছড়ায়! আপনার শরীরে প্রবেশ করলো, অথচ উপসর্গ দেখা দিলো ১৪ দিনের মাথায়!
এই ১৪ দিনে আপনি যেখানে যেখানে যাচ্ছেন, আপনার অজান্তেই ছড়িয়ে দিয়ে আসছেন এই মরনব্যাধী ভাইরাস! তাই আমাদের এয়ারপোর্ট কতৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন, দয়া করে আপনারা প্রতিটি চায়না ফেরত যাত্রীর তথ্য সংগ্রহ করুন,,১৪ দিন অব্দি তাদের সাথে যোগাযোগ রাখুন, তাদের অবজারভার করুন!
বাংলাদেশে দুদিন আগে হোক বা পরে হোক এ ভাইরাস ছড়াবেই! হয়তো ইতিমধ্যে আমাদের মাথামোটা এয়ারপোর্ট কতৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানের কারনে ছড়িয়েও গেছে সকলের অগোচরে, ভাইরাস নিরব ছড়াচ্ছে তার বিস্তার! কারন এখন অব্দি এয়ারপোর্টে শুধু থার্মাল স্কেনিং করেই সব যাত্রীদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে, কোন যাত্রীর তথ্যই সংগ্রহ করা হয়নি!

দেশবাসীর কাছে অনুরোধ- নরমাল জ্বর-কাশি হলে হালকা ভাবে নিবেন না, হাসপাতালে যান, শিউর হয়ে নিন আপনার শরীরে বাসা বেধেছে কিনা এই মরনব্যাধি ভাইরাস!

যত পরে এই ভাইরাস আমাদের দেশে ছড়াবে, প্রানহানির পরিমান ততো কম ঘটবে! দোয়া করি ততোদিন এর ভ্যাকসিন আবিস্কার হয়ে যাক! চায়না সরকার এই ভাইরাস সনাক্ত হবার পরপরই এ ভাইরাসের স্যাম্পল বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে দিয়েছে গবেষণার জন্য, এর প্রতিষেধক আবিষ্কার করার জন্য, বিজ্ঞানীরা নিরিলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে! অতি শীঘ্রই এর ভ্যাকসিন আবিস্কার না হলে, পৃথিবীকে ঘুনতে হবে অগনিত লাশ!

ভালো থাকুক আমার দেশ, ভালো থাকুক এই ধরিত্রী!

লিখেছেনঃঃ

মোঃ আরিফ হোসাইন,
পিএইচডি গবেষক,
স্কুল অব ফুড সাইন্স এন্ড হেলথ্,
বেইজিং টেকনোলজি এন্ড বিজিনেস ইউনিভার্সিটি,
বেইজিং, চায়না

তথ্যসূত্রঃ চায়না হেলথ্ অথোরিটি!