মানব সন্তানের সাথে মানুষের সম্পর্কে কখনো উচ্চবিত্ত-নিম্নবিত্তের সীমারেখা টানা যায় না। আর অগ্রাহ্য করা যায়না, শিশুর ভালোবাসা। অতিসম্প্রতি তেমনই এক ভালোবাসায় মোড়ানো ছবি ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। ছবিতে ঢাকার রাস্তায় প্রাইভেটকারের ভেতর থাকা শিশুকে জানালা দিয়ে একজন রিক্সাচালকের সাথে হাসির আদান-প্রদান করতে দেখা যায়। হৃদয়ে নাড়া দেয়া ছবিটি নিজেদের প্রোফাইলে শেয়ার করেছেন দশ হাজার মানুষ, রিয়েক্ট দিয়েছেন ৭২ হাজারের বেশী মানুষ।

রিক্সাচালকের সাথে ছেলের এমন সহাস্য ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে শিরোনামে মা সাবিকুন নাহার লিখেছেন, অমূল্য ১০ টাকা! ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে আরও লিখেছন- “জ্যামে বসে থাকতে থাকতে নাহয়ান (আমার একমাত্র ১১ মাসের ছেলে) বিরক্ত হয়ে গেছিলো। আমি না পেরে জানালার অর্ধেক খুলে দেই। সেও খুব খুশি, একটু করে মাথা আগায় আর মজা করে। অপরিচিত হলেও নাহয়ান প্রায় সবার দিকেই তাকিয়ে এমন হাসি দেয়, যা দেখে অন্যপক্ষ ওর সাথে না হেসে, কথা না বলে পারবেনা (মাশাআল্লাহ)। তো সে জানালা দিয়ে পাশের রিকশাওয়ালা মামার সাথে হাসাহাসি, খেলা শুরু করলো। মামাও যখন বুঝতে পেরেছে আমি মাইন্ড করছিনা, তখন স্বত্বস্ফুর্ত ভাবে খুব আদর করে কথা বলছিল এবং খেলছিল। আঙ্গুল দিয়ে পয়েন্ট করে, হাই ফাইভ, হ্যান্ডসেক করে। অনেকক্ষন যাবৎ তাদের ভাব আদান প্রদান চলে। সিগন্যাল যখন ছাড়বে মামা তার হাতে নতুন ১০ টাকার একটা নোট দেয় এবং বলে, মজা খাবে এটা দিয়ে। আমরা সবাই অপ্রস্তুত হয়ে গেছি, কিন্তু তার চোখ মুখের আনন্দ দেখে আর না করতে পারিনি। শুধু দোয়া চেয়েছি তার কাছে। আর মন থেকে দোয়া করি তার পরিবার যেন এক বেলাও অণাহারে না থাকে কোন দিন। অনেক বিত্তবানের মনও এত বড় দেখা যায়না, কিন্তু উনি অল্প সময়ে যে ভালবাসা দেখিয়েছেন তা সত্যিই প্রসংশনীয়। সেই টাকাটা যত্ন করে তুলে রাখলাম।”

এমন ঘটনাগুলোর জন্ম হয় বলেই তো আমার বিশ্বাস করি, পৃথিবী একদিন ভালোবাসার হবে। আসলে সামর্থ্যের বাইরে আসলে মনুষ্যত্বই বড়। সামাজিক অবস্থানের চেয়ে জরুরী, ভালোবাসার মত একতা মন থাকা।