সরস্বতী পূজার দিনে নির্বাচন নয়- এই দাবিতে গত এগারো তারিখ থেকেই বিভিন্ন কর্মসূচিতে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সংগঠন। আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে ডাকসু, এজিএস সাদ্দাম হোসেন ১২ তারিখের এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বক্তব্যে বলেছেন-

“নির্বাচন কিভাবে পিছাতে হয় তা ছাত্রসমাজ ভালো করেই জানে। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে। আমাদেরকে হাইকোর্ট দেখাবেন না।”

আজ বারোটার মধ্যে দাবি মানার আল্টিমেটাম ছিলো আন্দোলননারীদের, অন্যথায় নির্বাচন কমিশন ঘেরাও! দাবি না মানায় আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেয়। বিভিন্ন হল থেকে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী যোগ দেয় এই কর্মসূচিতে। ঘণ্টাখানেক তারা সেখানে মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করতে পদযাত্রা শুরু করেন। কিন্তু শাহবাগ মোড়ে তাদের আটকে দেয় পুলিশ।

আমাদের হাইকোর্ট দেখাবেন না- সাদ্দাম 1

এরপর শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিলে বেলা ২টার দিকে গুরুত্বপূর্ণ ওই মোড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে তাদের বিক্ষোভ চলে। বিকাল ৩টায় সেখানে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনের সমন্বয়ক জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের ভিপি উৎপল বিশ্বাস।

তিনি বলেন, ভোটের তারিখ পরিবর্তনের দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কমকর্তা-কমচারীদের সঙ্গে নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেবেন তারা। এছাড়া একই দাবিতে ঢাকা শহরের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে।

আজকের কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে ডাকসুর এজিএস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এমন কোনো সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারে না যাতে সাম্প্রদায়িকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।”

আমাদের হাইকোর্ট দেখাবেন না- সাদ্দাম 2

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “হাই কোর্টের কাঁধে বন্দুক রেখে আপনারা নিজেরা সাম্প্রদায়িক সিদ্ধান্ত নিলে এটা ছাত্র সমাজ মেনে নেবে না। নিবাচন কমিশন সাংবিধানিক এবং স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। নিবাচনের তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিবাচন কমিশনকেই নিতে হবে।”