বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান (এমপি) আজ মারা গেছেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন, ছাত্র রাজনীতির সময়ে ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের। দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদকের। প্রয়াত এই আওয়ামিলীগ নেতাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন ফেসবুকে লিখেছেন-

“২০০৪/০৫ সাল। তৎকালীন বিএনপি-জামাত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন তখন তুঙ্গে। আমি সাংবাদিকতা করি। আন্দোলনের মাঠ থেকে নিউজের প্রয়োজনে তখন প্রায়ই আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষাৎকার নেয়ার প্রয়োজন হতো। তখন সবেমাত্র বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোতে ঘটনাস্থল থেকে প্রতিঘন্টায় লাইভ ব্রডকাস্ট চালু হয়েছে। অফিস থেকে নির্দেশ থাকে ২ মিনিটের মধ্যে লাইভ শেষ করতে হবে।

'ওপারে ভালো থাকবেন মান্নান ভাই...' 1

কিন্তু সমস্যা ছিল বেশিরবাগ সিনিয়র নেতারাই বলা শুরু করলে টাইমলাইন মানতে চাইতেন না। দেখা গেছে যে টাইম শেষ হয়ে যাচ্ছে তখনও আসল কথাই বলতে পারেননি। অর্থাৎ কথাগুলো “টু দ্যা পয়েন্টে” থাকতো না। একজনের পরামর্শক্রমে তখন আমরা সাংবাদিকরা তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক মান্নান ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করলাম। ভাইকে বললাম, প্রতিদিন আপনাকে নির্দিষ্ট স্পটে থাকতে হবে। লাইভে আমরা আপনার স্বাক্ষাৎকার নিবো। অনেকের রোষানলে পরতে পারেন এই ভয়ে তিনি প্রথমে রাজি হননি। পরে আমাদের পীড়াপীড়িতে রাজি হয়েছিলেন।

আমরাও খুব খুশি ছিলাম। কারণ রাজনৈতিক কথা একদম টু দ্যা পয়েন্টে নির্ভুলভাবে স্বল্পসময়ে বলতে মান্নান ভাই খুবই পারদর্শী ছিলেন। অন্যরা যেখানে তিন মিনিটেও আসল কথা গুছিয়ে বলতে পারতেন না, মান্নান ভাই তা পারতেন ৩০ সেকেন্ডে।

ওপারে ভালো থাকবেন মান্নান ভাই…”

সাংসদ আবদুল মান্নানের মৃত্যু শোক জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- আওয়ামিলীগ একজন সাংগঠনিক লোক হারালো।