ম্যাচ শেষ, সব আয়োজনেও ইতি টানা হয়েছে। তবে আজ রাতটা নিশ্চিত ভাবেই ভালো যাবে না রানার। বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ড্রাফটে অবিক্রিত থাকা, অনেকগুলো অনিশ্চিত দিনের পর ভাগ্যদেবতার চোখ তুলে তাকানো! চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে আসরটা আজ করা শেষ ওভারের আগে অব্দি দুর্দান্তই কেটেছে তরুণ মেহেদী হাসান রানার। কেউ যাকে কিনতেই চায়নি, সেই মেহেদী কিনা গ্রুপ পর্বের শেষদিক পর্যন্ত ছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা উইকেট নেয়া বোলার। নামের পাশে জুটেছে ‘ট্রম্পকার্ড’ তকমাও। পেয়েছেন তিনটা ম্যাচ সেরার পুরষ্কারও!

আজ দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী রয়েলসের বিপক্ষে ক্রিস গেইলের ব্যাটে যে ঝড়ো শুরুটা হয়েছিলো, সে হিসেবে চট্টগ্রামের স্কোর দুশো ছাড়িয়ে যাওয়া খুব স্বাভাবিকই ছিলো। কিন্তু বিশ ওভার শেষে সেটি টেনেটুনে হয়েছে ১৬৪ অব্দি! রাজশাহীর ইনিংসের তৃতীয় ওভারে লিটন দাসকে নিজের করা ওভারেই যেভাবে রান আউট করলেন রানা, সে ধাক্কা রাজশাহী সামলে উঠতে পারেনি ইনিংসের ১৫ ওভার পর্যন্ত। এরপর এলেন আন্দ্রে রাসেল, পালটে গেলো দৃশ্যপট!

১৬ তম ওভারে রাসেল-নাওয়াজ মিলে রুবেলকে মারলেন ঊনিশ রান। তার আগের ওভারেই দুর্দান্ত ছিলেন মেহেদী রানা, এক উইকেট নিয়েছে মাত্র ছয় রান দিয়ে। ১৭ তম ওভারে এমরিত দিলেন ২০ রান! তখনও ম্যাচ চট্টগ্রামের মুঠোয়, ১৮ বলে রাজশাহীর প্রয়োজন ৩৭ রান। মাহমুদউল্লাহ আবার ডেকে পাঠালেন রুবেলকে, প্রথম বলেই উইকেট। এরপর একটানা আন্দ্রে রাসেলকে ব্লকে বল করলে চারটি, চারটিই ডট! শেষ বলে ছক্কা হাঁকালেন রাসেল। ১২ বলে দরকার ৩১ রান, বোলিংয়ে এলেন মেহেদী।

'রানা, ক্রিকেটে এমনই হয়' 1

দুর্দান্ত একটা টুর্নামেন্ট কাটানোর পর নিশ্চিত ভাবেই মেহেদী এই ওভারটা ভুলে যেতে চাইবেন, কিংবা মনে দাগ কেটে থাকবে আদ্রে রাসেলের নাম! প্রথম বলে স্ট্রাইক রোটেট করলেন আবু জায়েদ, স্ট্রাইকে পেলেন রাসেল। তুললেন ঝড়- ৬, ৪, ৬, ১! মাশরাফি প্রায়ই ক্রিকেটে ম্যাচ জিততে ভালো খেলার সাথে ভাগ্যের সাহায্য লাগার কথা বলে থাকেন। এ কথা যে সত্য তার প্রমাণ মিলেছে আগেও, নয়তো আবু জায়েদের ব্যাটে ইনসাইডিজ হয়েও বাউন্ডারি হতে হবে কেনো?

এমন না যে, এলোমেলো কিংবা ভীষণ বাজে বোলিং করেছেন। আসলে আদ্রে রাসেল যখন রুদ্রমূর্তি (২২ বলে ৫৪) ধারণ করেন, তখন এমনই হয়! ইনিংসের ১৯ আর নিজের করা চতুর্থ ওভারে ২৩ রান দিলেন মেহেদী হাসান রানা, স্বপ্নের ফাইনাল থেকে বারো বল দূরে থেকে শুরু করা ওভারটাই হয়ে রইলো দুঃস্বপ্নের। তবে রানা নিশ্চয়ই জানেন- ক্রিকেটে এমনই হয়। একটা মন্দ দিন আসে, একটা ওভার বাজে হয়। তবুও হাল ছাড়া যাবে না, মনোবলটা পোক্ত রেখে প্রস্তুত হতে হবে আবার, মাঠে নামতে হবে দ্বিগুন তেজে। ভাঙ্গতে হবে উইকেট, ছুঁতে হবে স্বপ্ন।